এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

সংসদে বিতর্ক, অর্থনীতি নিয়ে টানাপোড়েন, জ্বালানি সংকট ও স্বাস্থ্য বিপর্যয়—সব মিলিয়ে মাত্র ৫২ দিনের নতুন সরকার এখন একাধিক দিক থেকে চাপে পড়েছে।
মহসিন কবির: বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। জামায়াতে ইসলামী জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক শক্তি নানা ইস্যুতে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করছে। সংসদে কখনো কখনো কঠোর বিরোধিতার ঘটনাও ঘটছে। এমনকি এনসিপির কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্তব্য করেন—এগুলো সংসদীয় আচরণের সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়।
গণভোট বাস্তবায়ন ও ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা ১১ দলের জোট বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—
৯–১৫ এপ্রিল গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ
১১ এপ্রিল মহানগরে বিক্ষোভ
১২ এপ্রিল জেলায় জেলায় বিক্ষোভ মিছিল
এই কর্মসূচিগুলো ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করেছে। ফলে দেশে প্রতিদিনই জ্বালানি তেল নিয়ে শিরোনাম তৈরি হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রবৃদ্ধি নয়—বরং একটি টেকসই, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা।
তিনি আরও জানান,
২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুত হচ্ছে
বৈদেশিক চাপ মোকাবিলা করেই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে
উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত সহায়তা নেওয়ার চেষ্টা চলছে
বর্তমান সরকার একসঙ্গে একাধিক চাপে রয়েছে—
ডলার সংকট ও আমদানি জটিলতা
নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট
গুজব ও আস্থার ঘাটতি
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী আন্দোলনের সম্ভাবনা
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারে বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীসহ সারা দেশে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। সরকার জ্বালানি রেশনিং শুরু করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী—
ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ কম
দিনে নির্দিষ্ট বরাদ্দ শেষ হয়ে যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টায়
পেট্রোলের দাম বেড়ে গেছে খুচরা বাজারে
সরকার বাধ্য হয়ে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—
রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ
সাপ্তাহিক লোডশেডিং
স্কুল-কলেজের সময় পরিবর্তন
ডিজেলের অভাবে কৃষি খাতেও বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বোরো মৌসুমে সেচ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৩৮–৫২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা, রাজশাহীসহ ৫৬ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে
হাসপাতালে আইসিইউ সংকট তীব্র
আক্রান্ত শিশুদের ভিড়ে হাসপাতালগুলো চাপের মুখে
সরকার টিকাদান কর্মসূচির জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জরুরি সিদ্ধান্তে সব চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি বাতিল করেছে।
উদ্দেশ্য—হাম মোকাবিলা ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই—বরং “প্যানিক বায়িং” পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।
তবে বিরোধী দল ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব সংকটই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
একদিকে অর্থনীতি, অন্যদিকে জ্বালানি ও স্বাস্থ্য—সব মিলিয়ে সরকার এখন এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে সমানতালে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহই নির্ধারণ করবে নতুন সরকারের স্থিতিশীলতা কতটা টেকসই হবে।