ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

বিএনপিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! অবসরের ঘোষণা দিলেন মির্জা ফখরুল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

বিএনপিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! অবসরের ঘোষণা দিলেন মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব পদে আসছে বড় পরিবর্তন—চলতি বছরের কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চলতি বছরেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর এই কাউন্সিল শেষ হলেই দীর্ঘদিনের রাজনীতি থেকে অবসরের পরিকল্পনার কথা জানালেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কাউন্সিলের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও এটি চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল প্রায় ১০ বছর আগে। দীর্ঘ সময় আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নতুন কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনের পর বিষয়টি আবারও গুরুত্ব পায়। এমনকি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

আসন্ন কাউন্সিলকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনা হলো—দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসছে কি না।
মির্জা ফখরুল নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এবার দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান।

তিনি বলেন,
“আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হবে। এরপর অবসর নিতে চাই। আমার বয়স হয়ে গেছে, অসুস্থও হচ্ছি।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন।

এরও আগে ২০০৯ সালের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছিল।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়। তিনি অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

সে সময় তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হল ইউনিটের মহাসচিব নির্বাচিত হন। পরে তিনি সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সভাপতিও হন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন।

শিক্ষাজীবন শেষ করে ১৯৭২ সালে তিনি ঢাকা কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন।

তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরেও কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে—

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক
ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনে দায়িত্ব

এছাড়া তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস.এ. বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যোগ দেন।
১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরপর ১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এবার মির্জা ফখরুলের অবসরের ঘোষণা বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। আসন্ন কাউন্সিলই নির্ধারণ করবে দলের মহাসচিব পদে কে আসছেন নতুন মুখ হয়ে।