ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পতন কি আসন্ন? গোপন বৈঠক ও সংকটে লেবার পার্টি রাজনীতিতে উত্তেজনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পতন কি আসন্ন? গোপন বৈঠক ও সংকটে লেবার পার্টি রাজনীতিতে উত্তেজনা

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন একেবারেই অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আগামী শুক্রবার পর্যন্তও কি তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, নাকি সোমবারই তাকে পদত্যাগের মুখে পড়তে হবে?

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকের পুরো বিস্তারিত এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

স্টারমারের ঘনিষ্ঠরা এই বৈঠককে শুধুই উত্তর-পশ্চিমের দুই নেতার বন্ধুসুলভ আড্ডা বলে উড়িয়ে দিলেও, লেবার পার্টির ভেতরের একাধিক সূত্র দাবি করছে—আলোচনার বিষয় ছিল অনেক বেশি গভীর এবং গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাশটন-আন্ডার-লাইনে রেনারের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বার্নহ্যাম সন্ধ্যা ৬টার কিছু আগে একটি রূপালি মার্সিডিজে করে পৌঁছান। জানা গেছে, সেখানে তারা আগামী ৭ মের স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে একটি অত্যন্ত গোপনীয় এবং নেতিবাচক অভ্যন্তরীণ জনমত জরিপ নিয়ে আলোচনা করেন।

লেবার পার্টির হাই কমান্ড থেকে আড়াল করা ওই জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে দলটি দুই হাজারের বেশি কাউন্সিলর পদ হারাতে পারে। এই ফলাফল কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

একজন সিনিয়র লেবার এমপি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অ্যাঞ্জেলা রেনার স্বীকার করেছেন—তার বিরুদ্ধে চলমান এইচএমআরসি ট্যাক্স তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারবেন না। এই পরিস্থিতি বার্নহ্যামের জন্য নেতৃত্বের পথ কিছুটা সহজ করলেও এর সঙ্গে একটি বড় শর্তও যুক্ত হয়েছে। সেটি হলো, রেনার হবেন বার্নহ্যামের ডেপুটি এবং তার নিয়ন্ত্রণে থাকবে হাউজিং ও লেভেলিং-আপসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।

এদিকে সোমবার দিনটি স্টারমার সরকারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। ওইদিন বেলা সাড়ে ৩টায় হাউস অব কমন্সে লর্ড ম্যান্ডেলসন কেলেঙ্কারি নিয়ে তাকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেন ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো—এই বিষয়টিই কেলেঙ্কারির মূল কেন্দ্র।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে অজ্ঞতার কথা বলতে পারেন। তবে লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চারদের একটি অংশ ইতোমধ্যে পাল্টা জবাবের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। যদি স্টারমার বিশ্বাসযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন, তবে ক্লাইভ লুইসের মতো বামপন্থি এমপিরা সরাসরি পার্লামেন্ট থেকেই তার পদত্যাগ দাবি করতে পারেন। সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে এই দাবিতে আরও এমপিরা যুক্ত হতে পারেন, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে মঙ্গলবার বরখাস্ত হওয়া ফরেন অফিস প্রধান স্যার অলি রবিন্স পার্লামেন্টারি কমিটিতে সাক্ষ্য দেবেন। তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি খুবই ক্ষুব্ধ এবং প্রমাণ করতে চান যে ডাউনিং স্ট্রিটের রাজনৈতিক চাপেই ম্যান্ডেলসনকে নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।

এই সাক্ষ্য যদি প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের বিপরীতে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এমনকি অনেকেই ধারণা করছেন, চাপ সামলাতে স্টারমার সোমবার বিকেলেই পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন।