ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬ | ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

তাইওয়ান ঘিরে নতুন যুদ্ধ-উত্তেজনা! ফিলিপাইন–যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া নিয়ে এশিয়াজুড়ে বাড়ছে শঙ্কা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

তাইওয়ান ঘিরে নতুন যুদ্ধ-উত্তেজনা! ফিলিপাইন–যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া নিয়ে এশিয়াজুড়ে বাড়ছে শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এবার এশিয়ায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাইওয়ানের কাছাকাছি একটি দ্বীপে ফিলিপাইন ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌ-মহড়া শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

ফিলিপাইনে সোমবার থেকে শুরু হওয়া বার্ষিক মহড়ার অংশ হিসেবেই এই নৌ-অনুশীলন চালানো হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেনাদের প্রস্তুতি যাচাই করাই এর মূল উদ্দেশ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিপাইনের উত্তর উপকূল এবং বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরের সীমান্তবর্তী এলাকায় শুরু হওয়া ১৯ দিনের এই মহড়ায় ১৭ হাজারেরও বেশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

এবার প্রথমবারের মতো বড় পরিসরে এই মহড়ায় যোগ দিয়েছে জাপান। দেশটি ১ হাজার ৪০০ সেনা পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফ্রান্স এবং কানাডার সামরিক সদস্যরাও “সোল্ডার টু সোল্ডার” নামের এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিপাইন, চীন এবং তাইওয়ানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই এই মহড়ার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ফিলিপাইনের মহড়া মুখপাত্র কর্নেল ডেনিস হার্নান্দেজ জানিয়েছেন, জাপানি বাহিনী তাদের আধুনিক ‘টাইপ ৮৮ ক্রুজ মিসাইল’ ব্যবহার করে উত্তর পাওয়ে উপকূলে একটি লক্ষ্যবস্তু জাহাজ ডুবানোর অনুশীলন করবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের টোমাহক এবং এনএমইএসআইএস জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ড্রোন মোকাবেলা এবং সমন্বিত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এই মহড়ায় পরীক্ষা করা হচ্ছে।

দ্য স্ট্রেইট টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মহড়া এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন তাইওয়ানের ওপর সামরিক চাপ বাড়িয়েছে চীন। ফিলিপাইনের উত্তর উপকূলে লাইভ-ফায়ার অনুশীলনের যে এলাকা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সরাসরি তাইওয়ান প্রণালির দিকে মুখ করে রয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস আগেই সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান নিয়ে কোনো সংঘাত শুরু হলে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইনও সেই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহড়া মুখপাত্র কর্নেল রবার্ট বান জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এশিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। তার মতে, এই মহড়া ফিলিপাইনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের “দৃঢ় সামরিক অংশীদারত্বের” প্রতিফলন।

সব মিলিয়ে, তাইওয়ান ঘিরে এই নতুন সামরিক মহড়া এশিয়ার আকাশে নতুন করে উত্তেজনার মেঘ জমাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।