এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

\দীর্ঘ কয়েক দশকের অংশীদারিত্বের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এখন কানাডার জন্য ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার মতে, এই নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আসার সময় এখনই। এমনটাই জানিয়েছে আল-জাজিরা।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) প্রায় ১০ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তায় কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে কানাডাকে সরে আসতেই হবে।
কার্নি বলেন, “বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক ও বিভক্ত। যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে এবং শুল্ক এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা শেষবার মহামন্দার সময় দেখা গিয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে আমরা শক্তি ভাবতাম, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটার অনেকটাই এখন দুর্বলতায় পরিণত হয়েছে। নিজেদের স্বার্থেই এই দুর্বলতা দ্রুত ঠিক করতে হবে।”
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্য এবং উচ্চ শুল্কের হুমকি বিশ্ব বাণিজ্যের হিসাব পাল্টে দিয়েছে। বিশেষ করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অঙ্গরাজ্য হওয়ার পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, তা দেশটির সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভিডিও বার্তার এক পর্যায়ে কার্নিকে ১৮১২ সালের যুদ্ধের ব্রিটিশ সেনাপতি জেনারেল আইজ্যাক ব্রকের একটি ছোট প্রতিকৃতি হাতে দেখা যায়। ইতিহাসের সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকের পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও আমরা আগেও এমন হুমকির মুখোমুখি হয়েছি এবং সফলভাবে তা মোকাবিলা করেছি।”
২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযাচিত শত্রুভাবাপন্ন’ আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলে আসছেন। চলতি মাসের বিশেষ নির্বাচনে তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পর্যালোচনার আগেই কার্নি তার অবস্থান পরিষ্কার করে দিলেন। যদিও বর্তমানে কিছুটা নমনীয় সম্পর্ক বজায় রয়েছে, তবুও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
রবিবারের বক্তব্যে কার্নি স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের নিজেদের যত্ন নিজেদেরই নিতে হবে। একটি মাত্র বিদেশি অংশীদারের ওপর নির্ভর করে থাকা সম্ভব নয়। প্রতিবেশীদের তৈরি অস্থিরতা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, আর সবকিছু হঠাৎ ঠিক হয়ে যাবে—এই আশায় আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।”