এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

দক্ষিণ লেবাননের দেবাল গ্রামে ইসরায়েলি সেনাদের যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙচুরের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং যুদ্ধের সময় ধর্মীয় স্থানগুলোতে হামলার বিষয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দক্ষিণ লেবানন থেকে শুরু করে গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর পর্যন্ত—ইসরায়েলি হামলায় খ্রিস্টান ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গির্জা, মসজিদ ও মাজারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘দ্য নিউ আরব’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চলেছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দেবাল গ্রামের একটি ছোট খ্রিস্টান মাজারে থাকা ক্রুশিফিক্স ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই ঘটনার নিন্দা জানান।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের স্থল অভিযানের সময় শামা গ্রামে অবস্থিত ‘মাকাম শামউন আল-সাফা’ মাজারটি ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র স্থান হিসেবে পরিচিত ছিল এবং সেন্ট পিটারের সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়।
এছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রাম মহাইবিবে একটি প্রাচীন মাজার ও পাশের একটি মসজিদও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের দাবি, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিমান হামলায় দারদঘায়ার ‘সেন্ট জর্জ মেলকাইট ক্যাথলিক চার্চ’ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় খ্রিস্টান ও মুসলিম—উভয় ধর্মের উপাসনালয়ই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে গাজায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বেসামরিক এলাকা ধ্বংসের পাশাপাশি ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের সময় বহু গুরুত্বপূর্ণ খ্রিস্টান স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
বিশ্বের প্রাচীনতম গির্জাগুলোর একটি ‘চার্চ অব সেন্ট পরফিরিয়াস’-এ ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামলা হয়। গির্জা কর্তৃপক্ষ জানায়, চত্বরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া বেসামরিক নাগরিকদের অনেকেই এতে প্রাণ হারান। গির্জার একটি প্রধান ভবনও ধ্বংস হয়ে যায়।
গাজার একমাত্র ক্যাথলিক গির্জা ‘হলি ফ্যামিলি চার্চ’-ও বিমান হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই গির্জা বারবার বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। পাশাপাশি সেন্ট পরফিরিয়াস মঠ এবং আশপাশের ধর্মীয় ভবনগুলোও একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে।