ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

যুদ্ধবিরতির নামে ফাঁদ! ট্রাম্পের ঘোষণাকে সরাসরি ‘হামলার কৌশল’ বলল ইরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

যুদ্ধবিরতির নামে ফাঁদ! ট্রাম্পের ঘোষণাকে সরাসরি ‘হামলার কৌশল’ বলল ইরান

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই ঘোষণাকে স্বাভাবিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং আকস্মিক হামলার একটি কৌশল হিসেবে দেখছে ইরান।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি এক প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর মন্তব্য করেন। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

মাহদি মোহাম্মাদি বলেন, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার “কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই”। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এই ধরনের বার্তা আসলে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা। তিনি আরও বলেন, যেসব পক্ষ যুদ্ধে পিছিয়ে থাকে, তারা কখনো শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না।

তার ভাষায়, অবরোধ চালিয়ে যাওয়া এবং বোমা হামলা—দুটিই একই ধরনের আগ্রাসন। তাই এর জবাবও কঠোর অবস্থান থেকেই দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের এই ঘোষণা আসলে হঠাৎ করে নতুন হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এ কারণেই ইরানের এখনই কৌশলগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, একই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। মধ্যরাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। পাশাপাশি তিনি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেন।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণার পর ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, তার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসিম মুনিরের পক্ষ থেকেও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। কারণ চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে নিতে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও লেখেন, পাকিস্তান আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান খুঁজতে চায়। তার আশা, উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে এবং ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে করে চলমান সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।