ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

হরমুজ খুলে দিতে চায় ইরান? ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন উত্তেজনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

হরমুজ খুলে দিতে চায় ইরান? ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা রাখার পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে মার্কিন অবরোধের কারণে প্রতিদিন ইরানের কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প মনে করেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ তুলে নেয়, তাহলে তেহরানকে কোনো ধরনের শান্তি চুক্তিতে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা ইরানের জন্যও লাভজনক নয়। তার ভাষায়, ইরান চায় এই রুট খোলা থাকুক, যাতে তারা প্রতিদিন এই পথ থেকে বিপুল অর্থ আয় করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে এখন তারা নিজেদের অবস্থান রক্ষার জন্য হরমুজ বন্ধের পক্ষে কথা বলছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তিন থেকে চার দিন আগে তিনি জানতে পারেন যে ইরান হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার পক্ষেই রয়েছে। তবে তার মতে, এখন যদি এই শর্ত মেনে প্রণালী খুলে দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির সব সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি লেখেন, কিছুদিন আগে তাকে জানানো হয়েছিল যে ইরান দ্রুত হরমুজ থেকে অবরোধ প্রত্যাহার চায়। কিন্তু এখনই সেই সিদ্ধান্ত নিলে চুক্তির সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এরপর আরও কঠোর ভাষায় ট্রাম্প বলেন, এমন পরিস্থিতিতে হয়তো চুক্তির জন্য পুরো ইরান এবং তাদের নেতৃত্বকে লক্ষ্য করেই পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির লক্ষ্যেই এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিরতির তৃতীয় দিন, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্যে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। তবে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।

এই ব্যর্থ বৈঠকের পরের দিনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী এবং ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর অবরোধ জারির নির্দেশ দেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।