ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ২২, ২০২৬ | ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরান যুদ্ধেই অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র শেষ, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বড় সংকটের ইঙ্গিত


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

ইরান যুদ্ধেই অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র শেষ, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে বড় সংকটের ইঙ্গিত

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ এবং পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র বলছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নতুন কোনো বড় যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে গোলাবারুদের ঘাটতির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাত্র সাত সপ্তাহের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রের অন্তত ৪৫ শতাংশ ব্যবহার করেছে।

একই সময়ে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত THAAD ব্যবস্থার অন্তত অর্ধেক মজুদ শেষ হয়ে গেছে। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০ শতাংশও ব্যবহার করা হয়েছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্যের সঙ্গে এই পরিসংখ্যান মিলেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুতে পেন্টাগন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে একাধিক চুক্তি করলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও পূর্ণ মজুদ পুনর্গঠন করতে এখনো তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগবে।

বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকতে পারে। তবে চীনের মতো বড় শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতে বর্তমান মজুদ যথেষ্ট নয়। পুরনো সক্ষমতায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।

প্রতিবেদনটির অন্যতম লেখক, অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক ক্যান্সিয়ান বলেন, উচ্চমাত্রার গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই মজুদ পুনর্গঠন করতে এক থেকে চার বছর সময় লাগবে, এরপর আরও কয়েক বছর প্রয়োজন হবে সেগুলো নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিতে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তাদের টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ, দূরপাল্লার জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্রের ২০ শতাংশেরও বেশি এবং SM-3 ও SM-6 ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২০ শতাংশ ইতোমধ্যে ব্যবহার করেছে। এগুলো পুনরায় পূরণ করতে চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কাছে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে যেকোনো সময় অভিযান চালানোর মতো প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা রয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসনের সময়ে একাধিক সফল অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় মার্কিন সামরিক বাহিনী যথেষ্ট সক্ষম।

তবে এই দাবি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তিনি আগেই বলেছিলেন, কোনো অস্ত্র সংকট নেই, যদিও একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের কারণে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ বাড়াতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের আবেদনও করেছেন।

যুদ্ধ শুরুর আগে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেছিল যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত অস্ত্র মজুদের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে সহায়তা করা সরবরাহ ব্যবস্থায়।

এদিকে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরাও ব্যবহৃত গোলাবারুদের পরিমাণ এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।