ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইউক্রেনের মেরুদণ্ড ধ্বংস, রাশিয়ার বিধ্বংসী বিমান হামলা!


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

ইউক্রেনের মেরুদণ্ড ধ্বংস, রাশিয়ার বিধ্বংসী বিমান হামলা!

গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনজুড়ে জ্বালানি, পরিবহন ও বন্দর অবকাঠামোতে সমন্বিত হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, একদিনেই প্রায় ১ হাজার ১২০ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত বা আহত হয়েছে এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এদিকে পূর্ব দিক থেকে ক্রামাতোরস্ক শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী, যা যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রণক্ষেত্রে রাশিয়ার অপ্রতিরোধ্য শক্তির সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ ব্যাটলগ্রুপগুলোর বিধ্বংসী হামলায় কিয়েভ বাহিনীর ১১শর বেশি সেনা প্রাণ হারিয়েছে। পুতিন বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হয়েছে ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি এবং বন্দর অবকাঠামো। আজ আমরা উন্মোচন করবো কীভাবে রাশিয়ার সামরিক কৌশল পুরো ডনবাস অঞ্চলকে ইউক্রেনীয় দখলদারমুক্ত করতে সফল হচ্ছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রুশ বিমান বাহিনী এবং মিসাইল ইউনিট ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত জ্বালানি ডিপো, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দর অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে ১৩১টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে কিয়েভ বাহিনীর ফ্রন্টলাইনে রসদ এবং অস্ত্র পাঠানোর ক্ষমতা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

সুমি এবং খারকিভ অভিমুখে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ নর্থ' এখন ইউক্রেনীয় সেনাদের জন্য সাক্ষাৎ যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত একদিনে এই গ্রুপটি ২০০-এর বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করেছে। রাশিয়ার এই দুর্ধর্ষ ব্যাটলগ্রুপের সামনে টিকতে না পেরে ইউক্রেনের ৬টি টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেড তাদের অবস্থান ছেড়ে পালিয়েছে। খারকিভ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এখন ধীরে ধীরে রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসছে।

পশ্চিমা বিশ্ব ইউক্রেনকে যেসব আধুনিক সমরাস্ত্র দিয়ে আস্ফালন করেছিল, রুশ সেনাদের হাতে সেগুলোর করুণ দশা এখন স্পষ্ট। ব্যাটলগ্রুপ নর্থের অভিযানে আমেরিকার তৈরি ৩টি এএন/টিপিকিউ-৩৭ কাউন্টার-ব্যাটারি রাডার এবং ইসরায়েলি রাডা সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির সামনে পশ্চিমা এই রাডারগুলো কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি, যা রাশিয়ার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের এক বড় প্রমাণ।

খারকিভ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট' তাদের আধিপত্য আরও মজবুত করেছে। একদিনের লড়াইয়ে এই গ্রুপটি ২০০ ইউক্রেনীয় সেনাকে নির্মূল করেছে। এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইউক্রেনের ব্যবহারের জন্য পাঠানো আমেরিকার তৈরি দুটি এম-১১৩ আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার এখন রাশিয়ার গোলার আঘাতে লোহালক্কড়ে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার এই বিজয় রথ থামাতে এখন কোনো পশ্চিমা শক্তিই সক্ষম নয়।

দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ সাউথ' একের পর এক কৌশলগত অবস্থান দখল করে নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ১৩৫ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রার মুখে ইউক্রেনের মাউন্টেন অ্যাসল্ট ব্রিগেড এবং পাঁচটি মেকানাইজড ব্রিগেড চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কোন্সতান্তিনোভকা এবং রাই-আলেকজান্দ্রোভকার মতো এলাকায় রাশিয়ার বিজয় নিশান এখন পতপত করে উড়ছে।

রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার' বর্তমানে সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। গত একদিনে এই গ্রুপটির হাতে ৩২৫-এর বেশি ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। ইউক্রেনের তথাকথিত অভিজাত 'আজভ' স্পেশাল অপারেশন ব্রিগেড এবং একাধিক ন্যাশনাল গার্ড ব্রিগেড এই গ্রুপটির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। ৪টি আর্মার্ড কমব্যাট ভেহিকল এবং অসংখ্য সমরাস্ত্র ধ্বংস করে দিয়ে ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার এখন দোনেৎস্কের গভীরে প্রবেশ করছে।

জাপোরোজিয়ে এবং ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট' তাদের আক্রমণ আরও তীব্র করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ২৩০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে নিশ্চিহ্ন করেছে এবং দুটি আর্মার্ড কমব্যাট ভেহিকল ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার এই কৌশলী আক্রমণের ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যুহ একের পর এক তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ছে, যার ফলে পুরো দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চল এখন রাশিয়ার হাতের মুঠোয়।

খেয়ারসন এবং জাপোরোজিয়ে ফ্রন্টে রাশিয়ার 'ব্যাটলগ্রুপ ডিনিপ্রো' অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে তাদের অপারেশন পরিচালনা করছে। এই গ্রুপটি গত একদিনে ৩০ জন ইউক্রেনীয় সেনাকে খতম করার পাশাপাশি একটি 'গ্রাড' মাল্টিপল রকেট লঞ্চার ধ্বংস করেছে। রাশিয়ার গোলন্দাজ বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্র এখন যুদ্ধের ময়দানে অকেজো হয়ে পড়ে আছে, যা কিয়েভকে চরম সংকটে ফেলেছে।

রাশিয়ার আকাশসীমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত দুর্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী ইউক্রেনের ৩৬৮টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে আমেরিকার গর্ব হিসেবে পরিচিত ৩টি হিমার্স রকেটও রয়েছে। ইউক্রেন মরিয়া হয়ে রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করলেও রাশিয়ার অভেদ্য দেয়াল ভেদ করা তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার এই প্রযুক্তিগত বিজয় বিশ্বকে অবাক করে দিচ্ছে।

সমুদ্রপথেও রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ অটুট রয়েছে। কৃষ্ণ সাগরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাশিয়ার ব্ল্যাক সি ফ্লিট ইউক্রেনের একটি শক্তিশালী নেভাল ড্রোন বা ড্রোন বোট ধ্বংস করেছে। ইউক্রেন চেষ্টা করেছিল গোপনে জলপথে আঘাত হানতে, কিন্তু রাশিয়ার নৌবাহিনীর সতর্ক দৃষ্টির সামনে তাদের সেই ষড়যন্ত্র ধুলোয় মিশে গেছে। কৃষ্ণ সাগর এখন পুরোপুরি রাশিয়ার বীরত্বগাথার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

স্লাভিয়ানস্ক শহরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলো এখন রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্যবস্তু। সামরিক বিশেষজ্ঞ ভিটালি কিসেলেভ জানিয়েছেন, রাশিয়া সেখানে 'ইস্কান্দার' মিসাইল ব্যবহার করে মাটির তলায় লুকানো ইউক্রেনীয় দুর্গগুলো ধ্বংস করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাটির গভীর পর্যন্ত ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটায়, যার ফলে ইউক্রেনীয় সেনাদের তৈরি বিশাল বিশাল গুহা এবং অস্ত্রাগারগুলো এখন তাদের নিজেদেরই কবরে পরিণত হয়েছে।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্ক এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে। রাশিয়ার চিফ অফ জেনারেল স্টাফ জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, রুশ অগ্রবর্তী ইউনিটগুলো এখন শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্রামাতোরস্কের পতন হলে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের যেটুকু নিয়ন্ত্রণ অবশিষ্ট আছে, তা পুরোপুরি ধসে পড়বে। রাশিয়ার এই বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

খারকিভ অঞ্চলের ভ্যাটেরিনার্নে গ্রামটি দখল করে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ নর্থ এক বিশাল কৌশলগত সাফল্য অর্জন করেছে। এই এলাকাটি মুক্ত করার ফলে রাশিয়ার বেলগোরোড সীমান্তের কাছে একটি শক্তিশালী 'বাফার জোন' তৈরি হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয় জঙ্গিরা আর চাইলেই রাশিয়ার বেসামরিক এলাকায় হামলা চালাতে পারবে না। এখন রুশ সেনারা এখান থেকে সরাসরি কাজাচিয়া লোপানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালিত যে নতুন ড্রোনগুলো দিয়েছে, রাশিয়ার সামনে সেগুলোও এখন অকেজো। সুমি এবং খারকিভ ফ্রন্টে এই উন্নত ড্রোনগুলো মোতায়েন করা হলেও রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম সেগুলোকে সহজেই মাঝপথে থামিয়ে দিচ্ছে। রাশিয়ার প্রযুক্তির কাছে পশ্চিমা এই তথাকথিত 'গেম চেঞ্জার' অস্ত্রগুলো এখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

স্লাভিয়ানস্ক শহরে ইউক্রেনের প্রথম স্তরের প্রতিরক্ষা ব্যুহ এখন রাশিয়ার ভারী গোলন্দাজ বাহিনীর আঘাতে চুরমার হয়ে গেছে। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপগুলো অত্যন্ত কৌশলে শহরটিকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরছে। বিশেষজ্ঞ ভিটালি কিসেলেভ দাবি করেছেন যে, স্লাভিয়ানস্ক এবং ক্রামাতোরস্ক হচ্ছে ইউক্রেনীয় বাহিনীর লজিস্টিক হাব, যা হাতছাড়া হলে পুরো ডনবাস অঞ্চলে কিয়েভ প্রশাসনের শাসন চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।

ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো যখন রাশিয়ার বেসামরিক এলাকা যেমন কুরস্ক বা বেলগোরোডে হামলা চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়া অত্যন্ত মানবিকতার সাথে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলাগুলো এতটাই নিখুঁত যে সেখানে ইউক্রেনের কোনো প্রতিরক্ষা কাজ করছে না। রাশিয়ার এই বীরত্বপূর্ণ লড়াই বিশ্ব দেখছে এবং বুঝতে পারছে যে ন্যায় রাশিয়ার পক্ষেই আছে।

রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সেন্টার সম্প্রতি গ্রিশিনো গ্রামটি মুক্ত করেছে। এটি রাশিয়ার জন্য দোনেৎস্কের গভীরে যাওয়ার এক বিশাল দরজা খুলে দিয়েছে। এখান থেকে এখন রুশ সেনারা দোব্রোপোলিয়ার প্রশাসনিক সীমান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, বিশেষ সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সফলভাবে অর্জিত হচ্ছে এবং ডনবাসের মুক্তি এখন অবধারিত।

রাশিয়ার ড্রোন প্রযুক্তি এখন যুদ্ধের ময়দানে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট গত ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের ৪৫টি ভারী কমব্যাট কোয়াডকপ্টার এবং ৪৭টি ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। এর পাশাপাশি তারা ইউক্রেনের স্টারলিংক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন স্টেশনও অকেজো করে দিয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনীয় সেনাদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

ইউক্রেন যখন দোনেৎস্কের জনবহুল এলাকায় ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষ মারার চেষ্টা করছে, রাশিয়া তখন ডনবাস ডোম অ্যান্টি-ইউএভি সিস্টেমের মাধ্যমে সেগুলো রুখে দিচ্ছে। কিয়েভ সরকার নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে এখন প্রতিশোধ নিতে সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য বানাচ্ছে। কিন্তু রাশিয়ার সামরিক বাহিনী প্রতিটি হামলার কড়া জবাব দিচ্ছে এবং ইউক্রেনের প্রতিটি হামলাকারী ড্রোনকে মাটির সাথে মিশিয়ে দিচ্ছে।

রাশিয়ার লাগাতার বিমান হামলায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর রসদ ও গোলাবারুদ রাখার গুদামগুলো এখন ছাইয়ে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ সাউথ এবং নর্থ গত একদিনে অনেকগুলো ইউক্রেনীয় অ্যামুনিশন ডিপো ধ্বংস করেছে। গোলা বারুদ আর খাদ্যের অভাব ইউক্রেনীয় সেনাদের যুদ্ধ করার মানসিকতা একদম শেষ করে দিয়েছে। তারা এখন হয় আত্মসমর্পণ করছে, না হয় রণক্ষেত্র ছেড়ে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ ধ্বংস করেছে, তা অবিশ্বাস্য। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ৬৭১টি যুদ্ধবিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার এবং প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ২৯ হাজারেরও বেশি ট্যাংক এবং সাঁজোয়া যান ধ্বংস হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে রাশিয়ার সামনে ইউক্রেনীয় সামরিক শক্তি এখন কতটা নগণ্য।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর সাথে লড়াই করা বিদেশি ভাড়াটে সেনাদের অবস্থাও এখন শোচনীয়। রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপগুলোর হামলায় অনেক বিদেশি ভাড়াটে সৈন্যের গোপন আস্তানা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। জীবন বাঁচাতে তারা এখন ইউক্রেন ছেড়ে পালাচ্ছে। রাশিয়ার সুশৃঙ্খল এবং শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সামনে এসব ভাড়াটে সৈন্যরা কেবল রাশিয়ার বীরত্বের কাছে পরাজিত হওয়ার রেকর্ড গড়ে বাড়ি ফিরছে, যদি তারা বেঁচে ফিরতে পারে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে দেখা যায়, রাশিয়ার বিজয় এখন সময়ের ব্যবধান মাত্র। কিয়েভের বর্তমান প্রশাসন যতই পশ্চিমা সাহায্যের আশায় থাকুক না কেন, রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র বলছে অন্য কথা। রাশিয়ার প্রতিটি ব্যাটলগ্রুপ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে নাৎসিমুক্ত করছে। খুব শীঘ্রই আমরা দেখবো ক্রামাতোরস্ক এবং স্লাভিয়ানস্কের ওপর রাশিয়ার গৌরবের পতাকা উড়ছে এবং ডনবাসে শান্তি ফিরে আসছে।