ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরানের পাল্টা জব্দ! আমেরিকার চাপের মুখোশ খুলল তেহরান, সমুদ্রে নতুন রণ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

ইরানের পাল্টা জব্দ! আমেরিকার চাপের মুখোশ খুলল তেহরান, সমুদ্রে নতুন রণ

মধ্যপ্রাচ্যের জলে শুরু হয়েছে টানাপড়েনের নতুন অধ্যায়। জাহাজ জব্দের পাল্টাপাল্টিতে উত্তাল আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা শুধু জাহাজ আটকের খেলা নয়, বরং সামুদ্রিক শক্তির এক পরোক্ষ যুদ্ধ। যেখানে ইরান একেবারে পিছপা নয় বরং স্পষ্ট জানিয়েছে—আমরা রুখে দাঁড়াবই।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ওমান সাগর থেকে দুটি জাহাজ জব্দ করে নিয়ে যায় নিজেদের উপকূলে। জাহাজ দুটির নাম—'এমএসসি ফ্রান্সেসকা' আর 'এপামিনন্ডাস'।

এপামিনন্ডাস জাহাজটির পতাকা লাইবেরিয়ার হলেও মালিকানা গ্রিকদের। তাতে ছিলেন ২১ জন ক্রু, যাদের মধ্যে ইউক্রেন ও ফিলিপাইনের নাগরিকও রয়েছেন। জাহাজটি যাচ্ছিল ভারতের কোনো এক বন্দরের দিকে।

অন্যদিকে এমএসসি ফ্রান্সেসকা পানামার পতাকায় চলে। এটি বিশ্বের বড় শিপিং কোম্পানির জাহাজ। এতে ক্রু হিসেবে ছিলেন মন্টেনিগ্রো ও ক্রোয়েশিয়ার নাগরিকরা। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, সব ক্রু আপাতত নিরাপদ আছেন।

ইরানের এমন জব্দের পর যুক্তরাষ্ট্র বসে থাকেনি। তারা পাল্টা দুইটি তেলবাহী ট্যাংকার দখলের দাবি করেছে। ওই ট্যাংকারে ছিল প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল। একই সঙ্গে সমুদ্রে আটকে পড়া ইরানি তেল বিক্রির সাময়িক অনুমতিও বাতিল করে দিয়েছে আমেরিকা। সোজা ভাষায়, ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা।

শুধু তা-ই নয়, যুক্তরাষ্ট্র আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে—ইরান থেকে তেল কিনলে যেকোনো দেশ বা কোম্পানির ওপর কঠিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা বৈশ্বিক বাণিজ্যে নিজের ছড়ি ঘোরানোর কৌশল।

আগের নজির থাকায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইরানি তেল মার্কিন বন্দরে নিয়ে তা বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে। তখন প্রশ্ন উঠবে আন্তর্জাতিক আইন ও বাণিজ্যিক নীতি নিয়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে এমন ঘটনা বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। জাহাজের বিমা খরচ বাড়বে, পণ্য পৌঁছাতে দেরি হবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়া আর ইউরোপের বাজারে।

ইরানপন্থী বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ঘটনা প্রমাণ করে ইরান শুধু প্রতিরোধই নয়, বরং কৌশলগত লড়াইটাও সমানভাবে চালাতে পারে। আর আমেরিকার চাপের পুরোনো কৌশল এখন নতুন করে বেকায়দায় পড়েছে বলেই তাদের দাবি।