ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েল সেনা না সরালে আলোচনা নয়! লেবাননের কঠিন হুঁশিয়ারি, পিঠে ইরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ইসরায়েল সেনা না সরালে আলোচনা নয়! লেবাননের কঠিন হুঁশিয়ারি, পিঠে ইরান

ইসরায়েলের সেনারা পুরোপুরি দেশ ছাড়তে হবে। না হলে কোনো কথা নয়—এমন সাফ জানিয়ে দিল লেবানন। ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগেই প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম দিলেন এই কঠিন বার্তা।

সালাম বলেছেন, লেবানন এমন কোনো চুক্তিতে সই করবে না যাতে সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা নেই। সোজা কথায়, দেশের সার্বভৌমত্ব আর মানুষের নিরাপত্তা—এই দুই প্রশ্নে কোনো আপস নয়।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকের পর এক সাক্ষাৎকারে সালাম পরিষ্কার বলেন, ‘বাফার জোন’ বলে কিছু নয়, ইসরায়েলের ঘাঁটি থাকা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাতে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঘরে ফেরা বন্ধ হয়, আর গ্রাম-শহর পুনর্গঠনের পথও আটকে যায়।

তিনি আরও বলেন, লেবানন জানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর চাপ দিতে পারে। যুদ্ধবিরতি আনার সময় তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল, কিন্তু এখন সেই প্রভাব বাস্তবে দেখানোর সময় এসেছে।

ইসরায়েল আর পশ্চিমা দেশগুলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি তুলেছে। সালামের জবাব, ‘এটা দিনারাতের কাজ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।’ আরও পরিষ্কার করে বলেছেন, আলোচনায় বসেও লেবানন নিজের অবস্থান থেকে এক ইঞ্চি নড়বে না।

এরই মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের হামলায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে। এক হামলায় এক নারী সাংবাদিকসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আত-তিরি এলাকায় গাড়িতে হামলার পর সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপরেও আক্রমণ চালানো হয়।

ধ্বংসস্তূপ থেকে সাংবাদিক আমাল খলিলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর জয়নাব ফারাজ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এলাকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে উদ্ধারকারীরা দীর্ঘ সময় পৌঁছাতে পারেননি।

লেবাননের তথ্যমন্ত্রী এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা বলে নিন্দা জানিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, ইচ্ছে করেই বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করছে ইসরায়েলি বাহিনী।

লেবানন সরকারের পরিসংখ্যান বলছে, সম্প্রতি হামলায় ৫০ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। যা এক বিরাট মানবিক সংকট তৈরি করেছে।

ইরান লেবাননের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলে বাড়ছে শান্তির দাবি। কিন্তু লেবানন স্পষ্ট—সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো আলোচনা নয়।