এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

পারস্য উপসাগরের গলায় ছুরির মতো হরমুজ প্রণালি। আর সেই প্রণালিতেই অদৃশ্য অস্ত্রের খেলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের মাইনগুলো এতটাই নিখুঁত যে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌবাহিনী সেখানেই আটকে পড়েছে।
ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা মাইন পুঁতেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের ধারণা, এটাই এখন তেহরানের সবচেয়ে বড় কৌশল। এই ‘অদৃশ্য বিস্ফোরক’ সামলাতে আমেরিকাকেও দম ফেলতে হচ্ছে। আমেরিকা ইতিমধ্যে মাইন অপসারণের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
মার্কিন একটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন তুলতে আমেরিকার লাগতে পারে প্রায় ছয় মাস। তবে পেন্টাগন পরে এই তথ্য উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, ‘এটা পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক গোপন বৈঠকে আইনপ্রণেতাদের জানানো হয়, হরমুজ ও আশপাশে বহু মাইন বসানো হয়েছে। তার মধ্যে কিছু মাইন দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ফলে সেগুলো শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সমুদ্রপথে মাইন সব সময়েই বড় হুমকি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই হুমকি মোকাবিলায় তেমন গুরুত্ব দেয়নি কেউ। আর এখন আমেরিকার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ফলে গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেই চাপ পড়েছে।
ইরান পরিষ্কার বলে দিয়েছে, যতক্ষণ আমেরিকা তাদের ওপর নৌ-অবরোধ না তুলবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি ঠিকমতো খোলা হবে না। এর ফলে এই প্রণালির বিশাল এলাকা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।
প্রণালিটি দিয়ে বিশ্বের বিপুল জ্বালানি সরবরাহ হয়। তাই এখানকার পরিস্থিতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যকে না, গোটা দুনিয়ার অর্থনীতিকে টেনে নামাচ্ছে নিচের দিকে।
শেষমেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই একক কৌশল শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই নয়, বাণিজ্যের মাঠেও বদলে দিচ্ছে পুরো সমীকরণ। আর আমেরিকার জন্য পরিস্থিতি যে আরও জটিল হচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।