ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬ | ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

আমেরিকার চাপেও দমেনি ইরান! অর্থনীতি টিকে থাকার রহস্য কী?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

আমেরিকার চাপেও দমেনি ইরান! অর্থনীতি টিকে থাকার রহস্য কী?

আমেরিকা ইরানের ওপর নৌ-অবরোধ জারি করেছে। বোমা পড়ছে, জাহাজ আটক হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ। সব মিলিয়ে ইরানের ওপর চাপের বাড়ি বাড়তি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—ইরানের অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি ভাঙেনি। বরং টিকে থাকার এক বিস্ময়কর শক্তি দেখাচ্ছে দেশটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নৌ-অবরোধে ইরানের বন্দরগুলো চাপে পড়তে পারে। আগামী কয়েক সপ্তাহে তেল উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু ‘ইরানের অর্থনীতি ধসে পড়বে’—এমন দাবি এখনই ঠিক বলে মানছেন না তারা।

সাম্প্রতিক বোমা হামলা আর পাল্টা হামলার পর এখন মূল ফোকাস হরমুজ প্রণালি ঘিরে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার দিকে। সংঘাত শুরুর পর ইরান কার্যত এই প্রণালি বন্ধ করে দেয়। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন বন্দরে পাল্টা অবরোধ আরোপ করে। আমেরিকা বলছে, তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতেই এই চাপ। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে এই কৌশল বড় ফল দেবে না বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক সাঈদ লাইলাজের মতে, ‘অবরোধ যদি দুই থেকে তিন মাসের বেশি চলে, তাহলে ইরানের বড় ক্ষতি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলোর ক্ষতি ইরানের চেয়েও বেশি হবে। কিন্তু হ্যাঁ, ইরানের হাতেও সময় কম।’

গ্লোবাল রিস্ক ম্যানেজমেন্টের প্রধান বিশ্লেষক আর্নে লোহমান রাসমুসেন জানান, আগে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় এক মাসের মধ্যেই ইরানের তেল মজুদ শেষ হয়ে যাবে। এখন মনে হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আংশিক উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ১২ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া অবরোধে ইরান অর্থনৈতিকভাবে চাপে আছে এবং দেশটি টাকার অভাবে ভুগছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টও বলেছেন, খার্গ আইল্যান্ডে তেলের মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে এবং বড় তেলক্ষেত্রগুলো বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

মিডল ইস্ট ইকোনমিক সার্ভির জেমি ইনগ্রাম অবশ্য অন্য কথা বলেন। তার ভাষ্য, ‘ইরানের তেল মজুদ শেষ হওয়ার সময়সীমা দিনে দিনে নয়, বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে। সংকট গভীর হওয়ার আগেই ইরান উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে দেবে।’

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের তেল উৎপাদন কমছে। মার্চে দৈনিক উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমে ৩.৬৮ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমেছে। এপ্রিলে তা আরও কমে ৩.৪৩ মিলিয়ন ব্যারেল হতে পারে।

তবে অধ্যাপক লাইলাজ বলছেন, ‘মানসিক চাপ ছাড়া বড় ধরনের অর্থনৈতিক ধস এখনো দেখা যায়নি।’ ইনগ্রামের মতে, খার্গ আইল্যান্ড পুরোপুরি বাধা হয়ে দাঁড়াবে না—কারণ এটি শুধু রপ্তানির আগের শেষ সংগ্রহস্থল। ইরান চাইলে বিকল্প ব্যবস্থায় তেল সরিয়ে নিতে পারে।

শেষ পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্র যতই চাপ বাড়াক, ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে—এখনো তারা ম্যাচে আছে। কিন্তু এই লড়াই কত দিন টিকবে, সেটাই এখন দেখার।