এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেই আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নতুন সমীকরণ গড়ে তুলছে।
তুরস্ক, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও মিশরকে কেন্দ্র করে একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে উঠছে, যা ককেশাস থেকে শুরু করে মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দেশগুলো এমন একটি বাস্তবতা তৈরি করতে চাইছে যেখানে যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য কেবল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা ইরানকেন্দ্রিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের স্বতন্ত্র কাঠামোতে চলবে।
কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ঘাটতি দেশগুলোকে আরও কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় করছে, যদিও এখনো তারা পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটে রূপ নিতে পারেনি।
বর্তমান কাঠামোতে তুরস্ক ও সৌদি আরবকে নেতৃত্বাধীন শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান ও মিশর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রয়েছে। ইসলামাবাদকে এখানে একটি মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বিভিন্ন বৈঠক ও প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে এই দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইরান যুদ্ধ এবং গাজা সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সমীকরণ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।