ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

‘প্রবাসী কার্ড’ নয় ‘পেনশন স্কিম’ চান প্রবাসীরা, ৩০ বিলিয়ন টাকার তহবিল গড়ার সুযোগ


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম

‘প্রবাসী কার্ড’ নয় ‘পেনশন স্কিম’ চান প্রবাসীরা, ৩০ বিলিয়ন টাকার তহবিল গড়ার সুযোগ

দেড় কোটি প্রবাসীর কল্যাণে ‘প্রবাসী কার্ড’ বিতরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের পর প্রবাসীদের জন্য নেওয়া এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন মহল। তবে এই বিশেষ কার্ডের উপযোগিতা নিয়ে ভিন্নধর্মী বিশ্লেষণ ও নতুন প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন সংশ্লিষ্টরা।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বর্তমান সরকারের ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তুষ্টি দেখা গেলেও, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সরাসরি আর্থিক সুবিধার বদলে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। বিশেষ করে প্রবাসীদের বার্ধক্যকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘পেনশন স্কিম’ চালুর বিষয়টি এখন আলোচনায়।

ফেসবুক পেজ ‘ইটস ন্যাচারালরে’ (It's Natural) এক পোস্টে মোঃ রবিউল ইসলাম এই কার্ডের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গঠনমূলক দ্বি-মত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, ফ্যামিলি কার্ড যাদের দেওয়া হয়েছে তারা মূলত অনুৎপাদনশীল বা স্বল্প আয়ের মানুষ, তাই তাদের জন্য এটি যৌক্তিক। কিন্তু প্রবাসীরা যেহেতু নিজেরাই আয়ের প্রধান উৎস, তাই তাদের সরাসরি কার্ড দেওয়ার চেয়ে টেকসই কোনো ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

রবিউল ইসলামের মতে, একজন প্রবাসী সারাজীবন দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়ে শেষ বয়সে এসে অনেকের কাছেই বোঝা হয়ে দাঁড়ান। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আশ্রয় হয় বৃদ্ধাশ্রমে। এই সংকট সমাধানে তিনি সরকারকে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো প্রস্তাব করেছেন। যেখানে প্রত্যেক প্রবাসীর কাছ থেকে মাসিক ন্যূনতম ২০০০ টাকা করে জমা রাখা হবে।

এই জমা প্রক্রিয়ার মেয়াদ হবে ন্যূনতম ১০ বছর। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রবাসীর বয়স ৫৫ বছর পূর্ণ হলে তিনি জমার ভিত্তিতে নিয়মিত অর্থ উত্তোলন বা পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। এতে করে প্রবাসীদের শেষ জীবনের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

এই প্রস্তাবনার ফলে সরকারের জন্য বিশাল এক অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। দেড় কোটি প্রবাসী যদি মাসে ২০০০ টাকা করেও জমা দেন, তবে এক বছরেই প্রায় ৩০ বিলিয়ন টাকার সমপরিমাণ রিজার্ভ বা তহবিল গঠন সম্ভব। যা দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরও গতিশীল করবে।

সংগৃহীত এই বিশাল তহবিল সরকার কর্মসংস্থান তৈরির কাজে ঋণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং বেকারত্ব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি মূলত একটি দ্বিমুখী লাভের মডেল হিসেবে কাজ করবে।

বেকারত্ব দূরীকরণে রবিউল ইসলাম আরও কিছু কারিগরি ও কৌশলগত পদক্ষেপের পরামর্শ দিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা। এতে করে অদক্ষ শ্রমিকের বদলে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে।

বিশ্বজুড়ে নার্সিং পেশার ব্যাপক চাহিদার কথা উল্লেখ করে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থীদের এই পেশায় উদ্বুদ্ধ করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া সরকারি বৃত্তির মাধ্যমে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করলে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল তৈরি হবে।

দেশে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমেও কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে করে শুধু রেমিট্যান্স নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।

মোঃ রবিউল ইসলাম তার লেখায় স্পষ্ট করেছেন যে, তার এই মতামত সরকারের সমালোচনা নয়, বরং একটি ইতিবাচক এবং গঠনমূলক প্রস্তাবনা মাত্র। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নীতিনির্ধারকরা এই প্রস্তাবটি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন।

বিশেষ করে প্রবাসীদের জন্য সরাসরি অনুদান বা কার্ডের চেয়ে তাদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তার মতে, পেনশন স্কিম প্রবাসীদের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক প্রবাসী মনে করছেন, প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাওয়া গেলেও পেনশন স্কিম তাদের জীবনের শেষ দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানসিক শান্তি দেবে।

সরকার এখন পর্যন্ত ‘প্রবাসী কার্ড’ বিতরণের প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। তবে জনমানুষের এমন ইতিবাচক এবং দূরদর্শী প্রস্তাবনাগুলো সরকারি নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

প্রবাসীদের সামগ্রিক কল্যাণ এবং দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সমন্বিত চিন্তাই আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথ দেখাবে।