ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ২৭, ২০২৬ | ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা! রক্ষা নেই, মুশকিল আরও বাড়ল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলায় বড় ধাক্কা! রক্ষা নেই, মুশকিল আরও বাড়ল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর জন্য বেশ মুশকিলে পড়ে গেলেন। আদালতে চলমান দুর্নীতি মামলা থেকে শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগ।

শনিবার এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট হেরজগ কী বললেন জানেন? তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মামলাগুলোর বাদি পক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার নেতানিয়াহুর সব প্রচেষ্টা যদি ব্যর্থ হয়, কেবল তখনই তাঁর (নেতানিয়াহুর) ক্ষমার আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মনে করেন যে আদালতের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য সব ধরনের ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো উচিত। তারপরেই ক্ষমার আবেদন বিবেচনায় আসতে পারে।

প্রেসিডেন্ট হেরজগের এই বক্তব্যের মানে কী দাঁড়াল? অর্থাৎ শিগগির এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। ফলে আরও অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালতে হাজিরা দিতে হবে নেতানিয়াহুকে।

প্রসঙ্গত, প্রায় এক দশক আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগে ঘুষ, প্রতারণা আর অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের কথা বলা হয়। ২০১৯ সাল থেকে ইসরায়েলের আদালতে এই মামলাগুলোর বিচার চলছে। বর্তমানে তিনটি মামলার শুনানিতে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত হতে হচ্ছে নেতানিয়াহুকে।

দুর্নীতির মামলা থেকে রেহাই পেতে গত নভেম্বরেই প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছিলেন তিনি। নেতানিয়াহু আবেদন করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টকে সেই আবেদন বিবেচনার আহ্বান জানান। জবাবে প্রেসিডেন্ট হেরজগ ট্রাম্পকে বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘হস্তক্ষেপ’ কাম্য নয়।

সোমবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট হেরজগ এখন মামলার বাদি পক্ষের সঙ্গে নেতানিয়াহুর একটা আপস-মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। আর আপাতত ক্ষমার ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন।

মজার ব্যাপার হলো, ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরই বিবৃতি প্রকাশ করে হেরজগের দপ্তর। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন— যতক্ষণ না বাদির সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা হচ্ছে, ততক্ষণ ক্ষমা নিয়ে কোনো ভাবনা নেই।

উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।