এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

আবারও কেঁপে উঠল জাপান। সোমবার সকালে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় দ্বীপ হোক্কাইডোতে আঘাত হেনেছে ৬ দশমিক ২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প। জাপানের আবহাওয়া দপ্তর ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টা ২৩ মিনিটে) এই কম্পন অনুভূত হয়।
কোথায় ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তি? জাপানের আবহাওয়া দপ্তর (জেএমএ) জানিয়েছে, এর কেন্দ্র ছিল হোক্কাইডোর বড় শহর সাপ্পোরো থেকে ২০০ কিলোমিটার পূর্বে। আর ভূপৃষ্ঠের ৮৩ কিলোমিটার গভীরে ছিল কাঁপুনির উৎস।
ভালো খবর হলো, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে কেউ মারা যাওয়া বা আহত হওয়ার কোনো খবর নেই। সুনামিরও কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জেএমএ। তবে শক্তিশালী এই কাঁপুনিতে হোক্কাইডোর পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বড় বড় পাথর ধসে পড়তে পারে। ভূমিধসেরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
মজার ব্যাপার হলো, এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই হোক্কাইডোর দক্ষিণাঞ্চলে ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ পরপর দুবার কেঁপেছে জাপান।
জেএমএ আরও জানিয়েছে, সুনামির আশঙ্কা না থাকলেও আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও এই অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেও কেঁপেছিল জাপান। সোমবারেই হোক্কাইডোর আইওয়াত জেলায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। রাজধানী টোকিওতেও তখন কম্পন অনুভূত হয়, যদিও সেটা উপকেন্দ্র থেকে কয়েকশ মাইল দূরে! সেই ভূমিকম্পে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছিলেন।
জাপানে ভূমিকম্প কিন্তু নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘রিং অফ ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থানের কারণে এটা নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেখানে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি মানুষের দেশটিতে প্রতিবছর গড়ে দেড় হাজার ভূমিকম্প হয়। বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের ১৮ শতাংশই ঘটে জাপানে— সেটা কত বড় সংখ্যা, না হয় বুঝেই গেছেন!