ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৮, ২০২৬ | ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান, বিশ্বমঞ্চে তেহরানের কড়া বার্তা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান, বিশ্বমঞ্চে তেহরানের কড়া বার্তা

হরমুজ প্রণালি এবং এর আশপাশের জলসীমায় জাহাজ চলাচলে যে কোনো ধরনের বাধা বা অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের দায়ী করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের “বেপরোয়া ও অবৈধ” কর্মকাণ্ডই এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইরানি সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানায়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি এসব অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক পরিবহনে যেকোনো বিঘ্নের সম্পূর্ণ দায় যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীদের ওপর বর্তায়।

তার ভাষায়, এসব দেশের অবৈধ ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

ইরাভানি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরান সবসময় এই অঞ্চলে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বজায় রেখেছে। উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে তেহরান এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে কাজ করছে।

তিনি বর্তমান সংকটের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে দায়ী করেন। তার মতে, এটি একটি বড় ও অন্যায্য আগ্রাসন, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

ইরানি দূত সতর্ক করে বলেন, এসব পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য বড় হুমকি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ আটক এবং নাবিকদের বন্দি করে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করছে। এসব কর্মকাণ্ডকে তিনি সরাসরি “জলদস্যুতা” হিসেবে অভিহিত করেন।

ইরান এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের কাছে দাবি করেছে, আটক জাহাজ ও নাবিকদের দ্রুত মুক্তি দিতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ইরাভানি বলেন, হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় রাষ্ট্র হিসেবে ইরান আন্তর্জাতিক আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে, যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কোনো সামরিক অপব্যবহারের শিকার না হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থায়ী শান্তি তখনই সম্ভব, যখন ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ হবে এবং দেশটির সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান করা হবে।

সবশেষে তিনি জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং বাস্তবতা হলো—পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার সহযোগীরাই দায়ী।