এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

ইউরোপের ফুটবল দানব পিএসজি আর বায়ার্ন মিউনিখ যখন মুখোমুখি হলো, তখন গোল উৎসবের কী জমকালো আয়োজন! চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগেই দুই দল মিলিয়ে বানিয়ে দিল এক অনবদ্য ম্যাচ। পার্ক দে প্রিন্সেসে পিএসজি জিতল ৫-৪ গোলে। আর এই লড়াইয়েই তৈরি হলো নতুন রেকর্ড—সেমিফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ৯ গোল!
শুরু থেকেই যেন আকাশ ছোঁয়া ছন্দ। হ্যারি কেইন পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দিলেও পিএসজি এক ধাপে নিয়ে যায় ৫-২ লিড। কিন্তু বায়ার্নও বসে থাকে না। মুহূর্তেই ৫-৪ করে ফেলে তারা। ফলে পরের সপ্তাহে মিউনিখ লেগটা এখন জমজমাট হয়ে উঠার সম্ভাবনা পুরোমাত্রায়।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বায়ার্নের দিকেই ছিল। আলফনসো ডেভিস দুর্দান্ত একটা সেভ করে পাল্টা আক্রমণে পেনাল্টি আদায় করেন পক্ষে। কেইন গোলরক্ষক সাফোনভকে ভুল বুঝিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। আর তাতেই স্পর্শ করেন বিরল এক রেকর্ড—রবার্ট লেভানদোভস্কির পর টানা পাঁচ নকআউট ম্যাচে গোল করা বায়ার্নের দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখান ইংলিশ ক্যাপ্টেন।
পিএসজি অবশ্য পিছিয়ে থাকেনি। ২৪ মিনিটে খভিচা কভারাস্খেলিয়া দুর্দান্ত এক ফিনিশিং–এ গোল করে দলকে ফেরান খেলায়। তারপর জোয়াও নেভেসের হেডে এগিয়ে যায় পিএসজি। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসে দারুণ এক গোল করে বায়ার্নকে ফেরান সমতায় (২-২)। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আবার বিতর্কিত পেনাল্টি থেকে গোল করেন ডেম্বেলে। তাতে ৩-২ লিড নিয়েই ব্রেকে যায় পিএসজি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হলো পিএসজির ঝড়। আশরাফ হাকিমির পাস ধরে দ্বিতীয় গোল করেন কভারাস্খেলিয়া। তার মাত্র দুই মিনিট পর ডেম্বেলে অসাধারণ এক শটে ব্যবধান বাড়ান ৫-২। তাহলে কি ম্যাচ শেষ? মোটেও না! বায়ার্ন যেন অদম্য। জোশুয়া কিমিখের ফ্রি-কিক থেকে দায়ো উপামেকানো হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। আবার কেইনের পাস ধরে লুইস দিয়াজ গোল করতেই স্কোরলাইন ৫-৪। শেষ মুহূর্তে সেনি মায়ুলু আর কিমিখ দুজনেই গোলের সুযোগ মিস করেন।
এই ম্যাচ যেন পুরোনো ইতিহাসকেও ছাপিয়ে গেছে। গত মৌসুমে বার্সেলোনা-ইন্টার মিলানের লড়াই যাকে বলা হচ্ছিল মহাকাব্যিক, এই ম্যাচ তাকে টেক্কা দিয়েই দিল। আরেক দিকে ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে আয়াক্সের কাছে ৫-২ হারার পর এই প্রথম ইউরোপীয় কোনো আসরে ৫ গোল খেল বায়ার্ন মিউনিখ।
আর পিএসজি? চলতি মৌসুমে তারা চারবার এক ম্যাচে ৫ বা তার বেশি গোল করল। যা ২০১৭-১৮ মৌসুমে লিভারপুলের রেকর্ডের সমান। আর সেমিফাইনালের ইতিহাসে এর আগে এক ম্যাকে সবচেয়ে বেশি গোল ছিল ৭টি, সেটা আজ ৯-এ ঠেকল। চমকটা আরও এখানে যে, ম্যাচে মোট ২২টি শটের মধ্যে ৪০.১ শতাংশই গোল হয়েছে। এটাই দেখায় কী দুর্দান্ত ফিনিশিং করেছে খেলোয়াড়রা।
এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আগামী সপ্তাহে মিউনিখে। সেখানেই ঠিক হবে কে উঠবে ফাইনালের টিকিট। তবে প্রথম লেগের এই ৯ গোলের ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে অনেক দিন জ্বলজ্বল করবে।