এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মতভেদের কথা স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার। তবে তিনি এটিকে বড় কোনো বিভাজন হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমন্বয়ের অংশ বলেই উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে ‘আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ লিকুদ’ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি।
একই বৈঠকে অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো অংশ ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন সার। তাঁর মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনোথ–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে গিডিওন সার জানান— ট্রাম্পের দাবি থাকা সত্ত্বেও গত বছরের জুনের যুদ্ধের পর থেকে ইরান নতুন করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেনি।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও বেসামরিক স্থাপনায় টানা ১২ দিন ব্যাপী হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের একাধিক সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীসহ শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
গিডিওন সার দাবি করেন, ইসরায়েল কখনোই নতুন যুদ্ধ চায়নি। বরং ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি গভীর ভূগর্ভে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে তারা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দেওয়াই ছিল ওই হামলার মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছিলাম তারা এমন জায়গায় কাজ সরিয়ে নিচ্ছে যেখানে আমাদের বিমান বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেত। তাই আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।”
তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই দাবির বিপরীত চিত্রও উঠে এসেছে। অনেক বিশ্লেষণে বলা হয়, ইসরায়েলই বরং যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে সরাসরি হামলার জন্য চাপ দিয়েছিল।
অন্যদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে— ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বারবার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আবারও ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরে আরও সম্প্রসারিত হয়।
গিডিওন সার আরও বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন এই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য ছিল না। বরং তাদের ভাষায় ‘অস্তিত্বের হুমকি’ দূর করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যা ভবিষ্যতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, বিষয়টি পুরোপুরি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে নেই।
গত ১৪ এপ্রিল ইসরায়েলের গোয়েন্দা প্রধান ডেভিড বার্নিয়া বলেছিলেন, ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত এই মিশন শেষ হবে না।