এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ইরানের তেলকূপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, সেটিকে সরাসরি ‘ভুয়া পরামর্শ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
একই সঙ্গে তিনি কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অবরোধ নীতিই বরং বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৪০ ডলারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরান তেল রপ্তানি করতে না পারায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে ইরানের তেলকূপ বা পাইপলাইন বিস্ফোরিত হতে পারে—এমনকি তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটতে মাত্র তিন দিন বাকি।
এই মন্তব্যের জবাবে গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ কটাক্ষ করে লেখেন, “তিন দিন পার হয়ে গেছে, কোনো কূপ বিস্ফোরিত হয়নি। চাইলে আমরা এই সময়সীমা ৩০ দিন পর্যন্ত বাড়িয়ে এখান থেকে সরাসরি দেখাতে পারি।”
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসন ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের কাছে যে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই মেলে না।
গালিবাফের দাবি, এই ধরনের নীতি ও মানসিকতা বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এ ধরনের পরামর্শই তেলের দাম ১২০ ডলারের ওপরে তুলেছে, আর পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ১৪০ ডলার।”
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার হুমকির পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় গত দুই মাসে তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্রেন্ট ক্রুড ৬.৮ শতাংশ বেড়ে ১২৬ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ৩ শতাংশ বেড়ে ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩,৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।