এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ইরাকে অবস্থিত একটি যৌথ ব্রিটিশ-মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদন। ওই ঘাঁটিতে ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF)-এর সদস্যরাও অবস্থান করছিলেন।
প্রতিবেদনে এক আরএএফ বিশেষজ্ঞের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে চলমান উত্তেজনার সময় এই ঘাঁটি বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। এক পর্যায়ে দিনে গড়ে প্রায় ২৮টি পর্যন্ত ড্রোন হামলা চালানো হয় ওই স্থাপনায়।
তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, চারদিকে বিস্ফোরণ আর ধ্বংসাত্মক অস্ত্রের শব্দে পুরো পরিবেশ ছিল চরম আতঙ্কজনক। পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ছিল অত্যন্ত কঠিন অভিজ্ঞতা।
দীর্ঘদিন ধরে এই ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সেনারা একসঙ্গে ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে। তবে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার কারণে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের কূটনৈতিক সম্পর্কেও কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে মাঠপর্যায়ে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে সহযোগিতা এখনো শক্তিশালী রয়েছে। ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও দুই দেশের সেনারা একে অপরকে সহায়তা করে নিরাপদ অবস্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করেছে। তিনি এই সমন্বয়কে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, যদিও ব্রিটিশ বাহিনী সেখানে মূলত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে।
এয়ার চিফ মার্শাল স্যার হার্ভে স্মিথ জানান, মার্কিন কমান্ডারের সঙ্গে আলোচনায় ব্রিটিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। তার মতে, চলমান অভিযান দুই দেশের সামরিক সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে সামরিক পর্যায়ে সহযোগিতা বাড়লেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্তরে ওয়াশিংটন ও লন্ডনের অবস্থানে এখনো কিছু পার্থক্য রয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।