ঢাকা, শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে বড় মোড়! যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের পর বদলে যাচ্ছে পুরো পরিস্থিতি


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০১ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে বড় মোড়! যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যানের পর বদলে যাচ্ছে পুরো পরিস্থিতি

পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ইরান একটি সংশোধিত শান্তি প্রস্তাব দিতে পারে। সূত্রগুলোর দাবি, শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে উত্তর আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জানিয়েছেন—ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রকৃত অবস্থা তিনি এবং অল্প কয়েকজন ছাড়া আর কেউ জানেন না। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, প্রকাশ্যে স্থবিরতা দেখা গেলেও আলোচনার অগ্রগতি চলছে। তবে তিনি ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে কিছু অনিশ্চয়তার কথাও স্বীকার করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, আলোচনা মূলত ফোনে চলছে এবং ইরানের যেকোনো প্রস্তাবে তার প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার শর্ত কতটা গ্রহণযোগ্য হয় তার ওপর। এর আগে ইরানের একটি প্রস্তাব—প্রথমে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পরে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা—তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
এদিকে ট্রাম্প কংগ্রেসের সেই প্রচেষ্টার সমালোচনা করেছেন, যেখানে তার যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ এমন একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সিনেটে প্রত্যাখ্যাত হয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর তৈরি একটি আইনে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক শক্তি ব্যবহারের জন্য ৬০ দিনের সীমা নির্ধারিত রয়েছে, তবে এ নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধ চলছে।
একটি সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হালনাগাদ সামরিক বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফিং পাওয়ার কথা ছিল। এসব আলোচনা ইরানকে চুক্তিতে আনতে চাপের অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি নতুন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের চেষ্টা করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আবারও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সমালোচনা করে বলেছেন, এটি তার দেশের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক চাপেরই অংশ।
এছাড়া ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং স্পেন ও ইতালি থেকে সেনা কমানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ইরান ইস্যুতে মিত্রদের অবস্থান নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের টানাপোড়েনও বাড়ছে, যার প্রভাব কূটনৈতিক আলোচনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে।