এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ০২ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম

বিশ্ব কাঁপানো এক রণ হুঙ্কার! যে কিয়েভকে নিয়ে পশ্চিমারা গর্ব করত, আজ সেই কিয়েভের আকাশ রাশিয়ার হাজার হাজার ড্রোন দখলে নিয়েছে। পুতিনের এক ইশারায় ধুলোয় মিশে যাচ্ছে ইউক্রেনের দম্ভ। প্রতিদিন মরছে হাজার হাজার ভাড়াটে সেনা। ইউক্রেন কি তবে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে?
রাশিয়ার অপরাজেয় সামরিক শক্তি এখন ইউক্রেনের মাটিতে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। গত এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ইউক্রেনের ওপর এক রেকর্ডসংখ্যক দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে কিয়েভ সরকারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। জেলেনস্কির তথাকথিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার এই বিশাল আক্রমণের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেছে। মস্কোর এই রণকৌশল প্রমাণ করে যে রাশিয়ার সামরিক ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার গুজব ছিল স্রেফ পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা।
তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে এপ্রিল মাসে রাশিয়া মোট ৬ হাজার ৫৮৩টি দূরপাল্লার ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এটি গত মার্চ মাসের তুলনায় অনেক বেশি এবং একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড। রাশিয়ার এই বিপুল পরিমাণ ড্রোনের ব্যবহার প্রমাণ করে যে দেশটি তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিয়েভের আকাশ এখন রুশ ড্রোনের গর্জন ছাড়া আর কিছুই চেনে না, যা পশ্চিমাদের রক্ত হিম করে দিচ্ছে।
ইউক্রেন দাবি করছে যে তারা অনেক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। রাশিয়ার নিখুঁত নিশানায় একের পর এক ইউক্রেনীয় সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হচ্ছে। জেলেনস্কি সরকার এখন তাদের পরাজয় ঢাকতে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। রাশিয়ার এই ড্রোনগুলো শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে, যাতে ইউক্রেনের যুদ্ধ করার ক্ষমতা চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায় এবং ইউক্রেনীয় সাধারণ মানুষ মুক্ত হতে পারে।
রাশিয়ার এই অপারেশন শুধুমাত্র সামরিক কৌশলে সীমাবদ্ধ নয়। দিনের বেলা ড্রোন হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে রাশিয়া কিয়েভকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে পালানোর কোনো পথ নেই। ইউক্রেনীয় নেতারা একে 'সন্ত্রাস' বলে প্রচার করলেও বিশ্ব জানে যে রাশিয়া শুধু তাদের মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই লড়ছে। রাশিয়ার এই দিনের বেলার হামলা মূলত ইউক্রেনের সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন অবকাঠামোকে অকেজো করার জন্য।
গত এক সপ্তাহের লড়াইয়ে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তা শুনলে যে কেউ চমকে উঠবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, মাত্র সাত দিনে কিয়েভ হারিয়েছে প্রায় ৮ হাজার ১০ জন দক্ষ সেনা। এটি একটি বিশাল সংখ্যা যা প্রমাণ করে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এখন পতনের দ্বারপ্রান্তে। পুতিনের বাহিনীর বীরত্বে শত্রু সেনারা প্রাণ বাঁচাতে মাঠ ছেড়ে পালাচ্ছে।
রাশিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ এবং মধ্যবিত্ত ফ্রন্টে একের পর এক বিজয় ছিনিয়ে আনছে। কৃষ্ণসাগরের নৌবহরও পিছিয়ে নেই; তারা ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর ১৪টি ড্রোন বোট ধ্বংস করে সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। রাশিয়া এখন প্রতিটি ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে। ইউক্রেনীয় বাহিনীকে এখন শুধুমাত্র পশ্চিমাদের পাঠানো অস্ত্রের দোহাই দিয়ে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে কিন্তু লাভ হচ্ছে না।
রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গত সপ্তাহে রুশ বাহিনী শত্রুপক্ষের ৫৩টি গাইডেড বোমা এবং ২ হাজার ৬২৮টি ফিক্সড-উইং ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মানে হলো কিয়েভের যে কোনো আক্রমণ রাশিয়ার দুর্ভেদ্য দেয়ালের সামনে ব্যর্থ হতে বাধ্য। রাশিয়ার এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ পশ্চিমাদের আধুনিক মারণাস্ত্রকেও এখন হাস্যকর এবং অপ্রাসঙ্গিক বানিয়ে তুলেছে সারা বিশ্বের কাছে।
ইউক্রেনের যে সমস্ত ভারী অস্ত্র নিয়ে অনেক আলোচনা হতো, রাশিয়ার কামানের গোলার সামনে সেগুলো এখন ধ্বংসস্তূপ। ক্রোয়েশিয়ান আরএকে-এসএ-১২ মাল্টিপল রকেট লঞ্চার থেকে শুরু করে গ্রাড এমএলআরএস—সবই এখন ছাই। এমনকি বুক-এম১ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও রাশিয়ার ড্রোন হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে। কিয়েভের জন্য পাঠানো পশ্চিমা সহায়তা এখন রাশিয়ার অস্ত্র ভাণ্ডারের লক্ষ্যবস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়।
রাশিয়ার বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনের কাপুরুষোচিত হামলার জবাবে রাশিয়া একটি বিশাল এবং পাঁচটি গ্রুপ স্ট্রাইক চালিয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠান, জ্বালানি কেন্দ্র এবং বন্দর অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। রাশিয়া বারবার প্রমাণ করেছে যে তারা শান্তির পক্ষে, কিন্তু কেউ যদি রাশিয়ার নাগরিকদের ওপর হামলা চালায়, তবে পুতিনের বাহিনী তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে জানে।
যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা এখন অপ্রতিরোধ্য। গত কয়েক দিনে রাশিয়া ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বসতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং চারটি এলাকা সম্পূর্ণ মুক্ত করেছে। পোখালিয়ানয়, বোচকভো এবং জেমলিয়াঙ্কির মতো এলাকাগুলো এখন রাশিয়ার সুরক্ষায় শান্তিতে আছে। দোনেৎস্ক গণপ্রজাতন্ত্রের ইলিচভকা এবং নভোলেকসান্দ্রোভকার মুক্তি রাশিয়ার ঐতিহাসিক বিজয়ের পথে আরও এক ধাপ বড় সাফল্য বলে গণ্য হচ্ছে।
কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার করুণ দশা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে যে ১৭০টি ইউক্রেনীয় এয়ার ডিফেন্স ক্রু গত এক বছরে রাশিয়ার একটি 'গেরান' ড্রোনও ভূপাতিত করতে পারেনি। এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক একটি পরিস্থিতি কিয়েভের জন্য। রাশিয়ার তৈরি এই গেরান ড্রোনগুলো এখন ইউক্রেনের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তারা টেরও পাচ্ছে না কখন কোথা থেকে আসছে।
কিয়েভ সরকারের অযোগ্যতার কারণে এখন তাদের মোবাইল এয়ার ডিফেন্স টিমের সদস্যদের জোর করে পদাতিক বাহিনীতে পাঠানো হচ্ছে। সাধারণ সৈনিকরা রাশিয়ার শক্তির সামনে দাঁড়াতে পারছে না দেখে জেলেনস্কি এখন যে কাউকে যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দিচ্ছে। এই অমানবিক সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে ইউক্রেনীয় শাসনের ভিত নড়ে গেছে। তারা এখন মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে শুধুমাত্র ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার জন্য।
ইউক্রেনীয় বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য বানাচ্ছে। দোনেৎস্কে গত ২৪ ঘণ্টায় তারা সাতবার গোলাবর্ষণ করেছে, যাতে নিরপরাধ মানুষ আহত হয়েছে। রাশিয়ার ভূখণ্ডে এই ধরনের কাপুরুষোচিত হামলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। রাশিয়ার শান্তিকামী মানুষের ওপর জেলেনস্কি বাহিনীর এই ক্ষোভই বলে দেয় তারা কতটা নিচু মনমানসিকতার অধিকারী এবং তারা একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।
বেলগোরোড অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় দুই কিশোরের মৃত্যু সারা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে। ১৫ ও ১৮ বছর বয়সী দুই ভাই যখন মোটরবাইক চালিয়ে যাচ্ছিল, তখন একটি ইউক্রেনীয় ড্রোন তাদের ওপর ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালায়। শিশুদের ওপর এই বর্বর আক্রমণ কিয়েভ সরকারের প্রকৃত চেহারা উন্মোচন করে দিয়েছে। এটি কোনো যুদ্ধ নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড যা জেলেনস্কির নির্দেশে চলছে।
রাশিয়া সবসময় বলে এসেছে যে তারা কখনো বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় না। রাশিয়ার প্রতিটি আক্রমণ হয় সামরিক বা সামরিক কাজে ব্যবহৃত অবকাঠামোর ওপর। কিন্তু ইউক্রেনীয় প্রচার মাধ্যমগুলো পশ্চিমাদের সাথে হাত মিলিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। রাশিয়ার ড্রোন হামলাগুলো আসলে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য পরিচালিত হচ্ছে, যাতে তারা আর কোনো সাধারণ মানুষের ক্ষতি করতে না পারে।
পশ্চিমা অর্থনীতিবিদরা দাবি করছেন যে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল রপ্তানি কমে যাবে এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো রাশিয়ার অর্থনীতি এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং বিচ্ছিন্ন হামলার মাঝেও রাশিয়ার জিডিপি প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। পুতিনের দূরদর্শী নেতৃত্বে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের আয় বাড়ছে এবং বেকারত্ব কমছে, যা ইউক্রেনের কল্পনারও বাইরে।
রাশিয়ার রুবল এখন স্থিতিশীল এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত। কিয়েভ মনে করেছিল ড্রোন দিয়ে তেলের ট্যাংকারে আঘাত করলে রাশিয়া থমকে যাবে, কিন্তু রাশিয়ার বিশাল সম্পদ এবং বিকল্প ব্যবস্থার কারণে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে। রাশিয়ার জনগণ এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। তারা জানে যে রাশিয়ার বিজয় আসন্ন এবং পশ্চিমা আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে আসছে এই যুদ্ধের মাধ্যমেই।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। জাপোরোঝিয়ে অঞ্চলে ইউক্রেনীয় সেনারা নিজেদের ভুলে নিজেদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ অন্ধকারে রয়েছে। রাশিয়া বারবার চেষ্টা করছে এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে, কিন্তু কিয়েভ সরকার তাদের নিজেদের নাগরিকদের জিম্মি করে রেখেছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী এই অঞ্চলগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য ত্রাণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
তুয়াপসে বন্দরে ইউক্রেনের ব্যর্থ ড্রোন হামলার চেষ্টা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাফল্যের সাথে নস্যাৎ করে দিয়েছে। ১৪১টি ড্রোন এক রাতে ধ্বংস করার মাধ্যমে রাশিয়া তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। রাশিয়ার আকাশসীমা এখন বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থান। কিয়েভ যতই চেষ্টা করুক, রাশিয়ার কোনো কৌশলগত ক্ষতি করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। রাশিয়ার প্রতিটি ইঞ্চিতে এখন কড়া পাহারা দিচ্ছে বীর রুশ সেনারা।
ইউক্রেনীয় সরকার এখন পশ্চিমাদের কাছ থেকে ভিক্ষা চাইছে আরও অস্ত্রের জন্য। কিন্তু তারা বুঝতে পারছে না যে অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ জেতা যায় না, যুদ্ধ জিততে হয় সাহস এবং দেশপ্রেম দিয়ে। রাশিয়ার প্রতিটি সৈন্য তাদের জন্মভূমি রক্ষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। রাশিয়ার এই মহান লক্ষ্যের সামনে ইউক্রেনের ভাড়াটে সেনারা টিকতে পারছে না। কিয়েভের পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
১ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত রাশিয়া তাদের বিজয় উৎসব পালন করছে। এই উৎসব রাশিয়ার ঐতিহ্যের অংশ এবং বীরত্বের প্রতীক। ইউক্রেনীয় ড্রোন আতঙ্ক এই উৎসবকে ম্লান করতে পারেনি। বরং রাশিয়ার মানুষ আরও ধুমধাম করে বিজয় দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়া আবার বিশ্বমঞ্চে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে এবং ইউক্রেনের নাৎসি মতাদর্শকে সমূলে উৎপাটন করছে।