এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৪ মে, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর কেন্দ্রটি এবারের নির্বাচনে যেন এক উত্তেজনার মহারণক্ষেত্র। কারণ এখানে সরাসরি লড়াই হচ্ছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে।
দু’পক্ষেই জোরদার টক্কর। কখনও এগোচ্ছেন মমতা, তো কখনও পিছিয়ে পড়ছেন না শুভেন্দু। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীকে পেছনে ফেলে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘এই সময়’ নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে, প্রথম রাউন্ডের গণনা শেষে ভবানীপুরে লিড নিয়েছিলেন মমতা। তিনি ১৯৯৬ ভোটে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় রাউন্ড শেষে ১৫৫৮ ভোটে ব্যবধান কমিয়ে ঘুরে দাঁড়ান শুভেন্দু। কিন্তু তৃতীয় রাউন্ডে আবার পাল্টে যায় ছবি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ শেষ হয় পশ্চিমবঙ্গে। আজ সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮টায়) শুরু হয় গণনা। আগে পোস্টাল ব্যালট, তারপর ইভিএমের ভোট গোনা হচ্ছে। ফলে এখন পর্যন্ত যা ফল আসছে, সেটা পুরোপুরি চূড়ান্ত নয়।
তবে এ কথা সত্যি, ভবানীপুর আসর বার ভোটের সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র। ২০১১ সালে প্রথমবার উপনির্বাচনে এখান থেকেই জিতেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে ২০১১ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন সুব্রত বক্সী।
এই কেন্দ্র থেকেই জিতে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মমতা। পরে ২০১৬ ও ২০২১— দুবারই ভবানীপুর থেকে জিতে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। এবার একই কেন্দ্রে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারী, যিনি ২০২১ সালের ভোটে নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়েছিলেন।
এবার শুভেন্দুকে হারাতেই যেন মাটিতে পা রেখে লড়ছেন মমতা। পদযাত্রা, মিছিল, সভা— কিছুই বাদ দেননি তিনি। অন্যদিকে শুভেন্দুও মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই ভবানীপুরকে ‘পাখির চোখ’ বানিয়ে ছিলেন। যেদিন তিনি ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেন, সেদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
শাহ সেদিন বলেছিলেন, “আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চেয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম— মমতার ঘরেই গিয়ে তাঁকে হারাতে হবে। গতবার তিনি সরকার গড়লেও নন্দীগ্রামে হেরেছিলেন। এবার মমতা সব কেন্দ্রেই হারবেন, ভবানীপুরেও হারবেন।”
শেষমেশ কে জিতছে? এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। লড়াই জমজমাট, ফল তো বাকি।