ঢাকা, মঙ্গলবার, মে ৫, ২০২৬ | ২২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

যুদ্ধ থামাতে বসতে রাজি ইরান, কিন্তু ট্রাম্পকে মানতে হবে শর্ত!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৫ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

যুদ্ধ থামাতে বসতে রাজি ইরান, কিন্তু ট্রাম্পকে মানতে হবে শর্ত!

আলোচনায় বসতে চায় ইরান। কিন্তু আমেরিকাকে আগে মানতে হবে তাদের শর্ত। হরমুজ প্রণালির উত্তাপ কমাতে নতুন প্রস্তাব দিল তেহরান। স্পষ্ট বার্তা, ‘হুমকি দিয়ে কিছু হবে না!’

অবশেষে যুদ্ধ থামানোর পথে হাঁটতে চায় ইরান। তবে ওয়াশিংটনকে সেটা করতে হবে তাদের শর্তে। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আলোচনায় বসার আগে আমেরিকাকে ইরান সংক্রান্ত সব বাড়তি দাবি তুলে নিতে হবে।”

টেলিভিশনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান। অন্য পক্ষকে যুক্তিসংগত অবস্থান নিতে হবে এবং ইরানকে ঘিরে সব অতিরিক্ত শর্ত প্রত্যাহার করতে হবে।”

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর কূটনৈতিক খাত প্রায় স্থবির। সরাসরি মাত্র এক দফা আলোচনা হয়েছে। জটিলতার মূল কারণ হরমুজ প্রণালি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর এই জলপথের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান। ফলে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সময়ে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ বসিয়েছে ওয়াশিংটন।

আরও চাপ বাড়ে রোববার, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন— যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ এসকর্ট করা শুরু করবে। জবাবে ইরানের সামরিক বাহিনী পাল্টা হুঁশিয়ারি দেয়।

বাকেই বলেন, “এতদিনে আমেরিকার বোঝা উচিত যে, হুমকি ও শক্তির ভাষা দিয়ে ইরানি জাতির সঙ্গে আচরণ করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নিজেকে হরমুজ প্রণালি ও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের রক্ষক মনে করে।”

ইসরাইলকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “এই জলপথে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিশ্বজুড়ে যেসব সমস্যা হয়েছে, তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দায় নিতে হবে।”

এর আগেই বাকেই জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধ করে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র সেই প্রস্তাবে জবাবও দিয়েছে।

এবার দেখার বিষয়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই নতুন শর্ত মেনে আলোচনার টেবিলে বসে কি না।