এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৬ মে, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর হুঁশিয়ারির জবাবে এবার স্পষ্ট বার্তা দিল ইরান। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আমাদের কেউ আত্মসমর্পণ করাতে পারবে না।” তিনি জোর দিয়ে জানান, শিয়া ধর্মাবলম্বীদের কখনোই বলপ্রয়োগে বাধ্য করা যায় না।
বুধবার (০৬ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সামরিক হুমকি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যেকোনো সংলাপের জন্য প্রস্তুত। তবে কোনোভাবেই চাপ বা বলপ্রয়োগের কাছে নতি স্বীকার করবে না ইরান।
তিনি আরও বলেন, “যদি তারা যুক্তির ভাষায় কথা বলে, তাহলে সংলাপ সম্ভব। কিন্তু হুমকি বা ভয়ভীতির ভাষা কখনোই ফলপ্রসূ হবে না।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ করছে, অন্যদিকে আবার আশা করছে তেহরান আলোচনার টেবিলে বসে তাদের একতরফা দাবি মেনে নেবে—যা বাস্তবসম্মত নয়।
ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি পুরোপুরি ত্যাগ করার মার্কিন দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “এই সক্ষমতা থেকে নিজেদের বঞ্চিত করার কোনো প্রশ্নই আসে না। এটি বহু বছরের জাতীয় প্রচেষ্টার ফল।”
অন্যদিকে ফোনালাপে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি বলেন, ইরানের বর্তমান শক্তি শুধু তাদের একার নয়, বরং শিয়া অনুসারীসহ সকল মুসলমানের জন্য সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, “ইরানের কাছ থেকে এই ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া আমরা কখনোই মেনে নেব না।” একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, যখন দায়েশের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ইরাকে রক্তপাত ও ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল, তখন বাগদাদকে রক্ষা করতে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
আল-জাইদি মনে করেন, ইরাকের এখনো ইরানের সমর্থন প্রয়োজন। কারণ ইরানের শক্তি যেমন ইরাকের শক্তি, তেমনি ইরানের দুর্বলতা ইরাকের দুর্বলতাও।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দুই দেশের সম্পর্ককে অর্থনীতি, রাজনীতি, নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করব।”
সবশেষে তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার মতপার্থক্য কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান সম্ভব। কারণ, ওয়াশিংটন যেমন ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে পারবে না, তেমনি সংঘাতও কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।