ঢাকা, বুধবার, মে ৬, ২০২৬ | ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

কংগ্রেসের ‘না’ বলার ক্ষমতা! শর্ত সাপেক্ষে বিজয়ের পাশে রাহুল গঙ্গা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৬ মে, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম

কংগ্রেসের ‘না’ বলার ক্ষমতা! শর্ত সাপেক্ষে বিজয়ের পাশে রাহুল গঙ্গা

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে বড়সড় অগ্রগতি। অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামকে (টিভিকে) সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই সমর্থন ফ্রি নয়—কংগ্রেস দিয়েছে কঠিন এক শর্ত। জোটে যেন ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’কে রাখা না হয়। স্পষ্ট ভাষায়, বিজেপি বা তাদের ঘনিষ্ঠ কাউকে পাশে বসাতে পারবেন না বিজয়!

এনডিটিভির খবর অনুযায়ী, তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি ও কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি (সিএলপি) টিভিকে সরকার গঠনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) তামিলনাড়ু দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোদাঙ্কর এক বিবৃতিতে জানান, ‘আমাদের সমর্থন শর্তসাপেক্ষ—টিভিকে যেন কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে জোটে না আনে, যারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না।’

কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন পেয়ে টিভিকে-র সমর্থন সংখ্যা এখন ১১২। এর আগে ১০৭ আসন নিয়ে একক বৃহত্তম দল ছিল তারা। কিন্তু সরকার গঠনের জন্য দরকার ১১৮ আসন। অর্থাৎ এখনও ৬ আসনের ব্যবধান। এই ঘাটতি পূরণে বিজয় এখন ভিসিকে, সিপিআই ও সিপিএম-এর দিকে তাকিয়ে। এই তিন দলের সমর্থন পেলে মোট দাঁড়াবে ১১৯ বিধায়ক, যা যথেষ্ট।

তবে জটিলতা আরও বাড়িয়েছে এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীর সঙ্গে টিভিকে নেতাদের বৈঠক। চেন্নাইয়ে ওই বৈঠক ঘিরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকা এআইএডিএমকের ভিতরে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিতে পারে এই সাক্ষাৎ।

কংগ্রেস এটাও জানিয়েছে, টিভিকে-র সঙ্গে তাদের জোট শুধু সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং স্থানীয় সরকার, লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনেও এই সমঝোতা অব্যাহত থাকতে পারে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিজয় ও রাহুল গান্ধী তামিলনাড়ুর জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে সম্মান জানানোর এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিশেষ করে রাজ্যের তরুণদের স্বপ্ন পূরণে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।’

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি পেয়ে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে। এটি ৬২ বছরের ডিএমকে-এআইএডিএমকে-র দোয়া ধাক্কা দিয়েছে। ডিএমকে পেয়েছে ৫৯, এআইএডিএমকে ৪৭ আসন। বিজয় নিজে ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর—দুটি আসন থেকেই জিতেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, তিনি ত্রিচি ইস্ট আসন ছেড়ে দিয়ে পেরাম্বুর আসনটি ধরে রাখবেন। তাহলে ওই আসনে হবে উপনির্বাচন।