এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৯ মে, ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরব ও ইরান দীর্ঘদিন ধরেই আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বন্দ্ব শুধু রাজনৈতিক নয়—এর পেছনে ধর্মীয় বিভাজনও বড় ভূমিকা রাখছে। ইরানকে শিয়া মুসলিম বিশ্বের প্রধান শক্তি হিসেবে ধরা হয়, আর সৌদি আরব সুন্নি মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বে অবস্থান করছে।
১৯৭৯ সালের ইরানি ইসলামি বিপ্লবের পর এই প্রতিযোগিতা আরও গভীর হয়। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে ইরান একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন দেশে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা শুরু করে—যা আঞ্চলিক রাজনীতির গতিপথ বদলে দেয়।
এরপর ২০০৩ সালে ইরাকের সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসে। ইরাকের ভেতরে শিয়া নেতৃত্বের উত্থান ইরানের প্রভাব আরও শক্তিশালী করে তোলে।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর সিরিয়া, ইয়েমেন ও বাহরাইনের মতো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিকে দুই পক্ষই নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে সিরিয়া ও ইয়েমেন সংঘাতে সৌদি আরব ও ইরান বিপরীত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ইয়েমেনে হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংঘাত সৌদি আরবের জন্য বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইরানকে ঘিরে পশ্চিমা কিছু দেশের অবস্থান সৌদি শিবিরকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উঠে আসে।
২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। সৌদি আরব ও ইসরাইল এই চুক্তির বিরোধিতা করলেও ইরান এটিকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্ষমতার ভারসাম্যে বিভিন্ন দেশও বিভক্ত অবস্থানে রয়েছে। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও মিসর সাধারণত সৌদি অবস্থানের দিকে ঝুঁকে আছে। অন্যদিকে সিরিয়া ও লেবাননের কিছু গোষ্ঠী ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।