এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৮ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনীতে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহীমের রেকর্ডময় সেঞ্চুরিতে ভর করে ৩৯০ রান সংগ্রহ করেছে টাইগাররা।
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে এত বড় রান তাড়া করে জয়ের কোনো নজির নেই। ফলে ম্যাচে এখন শক্ত অবস্থানে রয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল বাংলাদেশ ৩ উইকেটে ১১০ রান নিয়ে। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ১৫ রান করে আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে দল।
সেখান থেকেই পাকিস্তানের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন মুশফিকুর রহীম ও প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে গড়েন ১২৮ রানের দুর্দান্ত জুটি।
লিটন দাস ৯২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে আত্মবিশ্বাসী ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন। পরে হাসান আলীর বলে আউট হন তিনি।
লিটনের বিদায়ের পরও থামেননি মুশফিক। মেহেদী হাসান মিরাজের ১৯ ও তাইজুল ইসলামের ২২ রানের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশের লিড ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।
এর মধ্যেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৬ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহীম।
এরপর খুররাম শাহজাদদের সামলে তুলে নেন নিজের কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিও। ১৭৮ বলে পূর্ণ করেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি।
এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে মুমিনুল হককে পেছনে ফেলে টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির একক রেকর্ড গড়েছেন মুশফিক। আগে মুমিনুলের ছিল ১৩টি সেঞ্চুরি।
শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১২টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১৩৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে সাজঘরে ফেরেন এই অভিজ্ঞ মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার আউটের মাধ্যমেই বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ হয় ৩৯০ রানে।
পাকিস্তানের হয়ে খুররাম শাহজাদ ৪টি এবং সাজিদ খান ৩টি উইকেট শিকার করেন।