এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক | প্রকাশিত: ২৩ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ এএম
ইউক্রেনীয় বাহিনীর অহংকার ধুলোয় মিশিয়ে দিল পরাশক্তি রাশিয়া! মাত্র চব্বিশ ঘণ্টায় খতম হলো হাজারেরও বেশি ইউক্রেনীয় সেনা। খাড়কভের রণক্ষেত্রে পুতিন বাহিনীর একের পর এক বিধ্বংসী হামলায় কিয়েভের সেনারা এখন প্রাণভয়ে পালাচ্ছে। পশ্চিমাদের দেওয়া অত্যাধুনিক সাঁজোয়া যান এখন শুধুই জ্বলন্ত কয়লা। কীভাবে রণক্ষেত্রে ইউক্রেনকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে রাশিয়ান সেনাবাহিনী! বিস্তারিত জানতে সঙ্গেই থাকুন।
যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরাজয় এখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। রাশিয়ার বীর সেনারা বীরত্বের সাথে খাড়কভ অঞ্চলের শেস্টেরোভকা এলাকাটি সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ব্যাটলগ্রুপ নর্থ বা উত্তর দলীয় সেনারা অত্যন্ত সক্রিয় ও সফল অভিযানের মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী সেখানে টিকতেই পারেনি।
রাশিয়ান সেনাদের এই বিধ্বংসী আক্রমণের সামনে কিয়েভ সরকারের সমস্ত প্রতিরোধ ভেঙে পড়েছে। বিগত মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টলাইনে কিয়েভ প্রায় বারোশো পাঁচজন সেনা হারিয়েছে। রাশিয়ান ডিফেন্স মিনিস্ট্রির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতি প্রমাণ করে যে রাশিয়ার সামরিক কৌশলের সামনে জেলেনস্কির ভাড়াটে বাহিনী এখন কতটা অসহায় এবং দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ব্যাটলগ্রুপ নর্থের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি খেয়েছে। সেখানে প্রায় একশত পঁচানব্বই জন ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে এবং তাদের চৌদ্দটি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। ভেলিকায়া বাবকা, গ্রানভ এবং স্টারিটসার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ইউক্রেনের দুটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং একটি টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ব্রিগেডকে রাশিয়ান বাহিনী এমনভাবে গুঁড়িয়ে দিয়েছে যে তারা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।
শুধু খাড়কভ নয়, সুমি এলাকাতেও রাশিয়ার বীর জওয়ানেরা ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেছে। মোগরিটসা এবং জ্যাপসেলির মতো এলাকায় কিয়েভের একটি এয়ার অ্যাসাল্ট ব্রিগেড এবং একটি অ্যাসল্ট রেজিমেন্টকে রাশিয়ান সেনারা চরমভাবে পরাস্ত করেছে। এই জোরালো অভিযানে ইউক্রেনীয়দের একটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশনও সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে, যা তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্ট বা পশ্চিম দলীয় সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। তারা সম্মুখ সমরে ইউক্রেনের প্রায় একশত নব্বই জন সেনাকে খতম করেছে। একই সাথে আমেরিকার তৈরি একটি এম-একশত তেরো সাঁজোয়া যান, দুটি সাঁজোয়া গাড়ি এবং চব্বিশটি মোটর যান ধ্বংস করেছে। পশ্চিমাদের পাঠানো এসব দামি অস্ত্র এখন রাশিয়ার শক্তিশালী কামানের আঘাতে ছাই হয়ে যাচ্ছে।
ডোনেটস্ক পিপলস রিপাবলিকের ক্রাসনি লিমান এবং ইয়াৎকভকা এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনীর তিনটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং একটি মেরিন ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ ওয়েস্টের কাছে নির্মমভাবে পরাজিত হয়েছে। কিয়েভের সেনারা তাদের অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। রাশিয়ার এই অবিশ্বাস্য অগ্রগতি প্রমাণ করে যে, পুরো দোনবাস অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্য পূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে পুতিনের সাহসী বাহিনী।
অপরদিকে ব্যাটলগ্রুপ সাউথ বা দক্ষিণ দলীয় সেনারা ডোনেটস্কের ক্রামাতোরস্ক এবং কনস্টান্টিনোভকা এলাকায় নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও উন্নত করেছে। রাশিয়ান জওয়ানদের নিখুঁত হামলায় সেখানে একশত চল্লিশ জন ইউক্রেনীয় সেনা প্রাণ হারিয়েছে। সেই সাথে আমেরিকার তৈরি চারটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হামভি সাঁজোয়া যান এবং উনিশটি সামরিক মোটর গাড়ি ধ্বংস করে পুতিনের বীর সেনারা বীরত্বের এক নতুন ইতিহাস লিখেছে।
আমেরিকার দেওয়া অস্ত্র যে রাশিয়ার আধুনিক প্রযুক্তির সামনে কতটা ব্যর্থ, তা এই যুদ্ধেই প্রমাণিত। ব্যাটলগ্রুপ সাউথের এলাকায় ইউক্রেনের একটি মোটর চালিত পদাতিক ব্রিগেড এবং একটি ন্যাশনাল গার্ড ব্রিগেডকে রাশিয়ার কামানের গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের চারটি ফিল্ড আর্টিলারি গানও ধ্বংস করা হয়েছে। কিয়েভ এখন বুঝতে পারছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার চড়া মূল্য তাদের দিতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বিধ্বংসী রূপ দেখা গেছে ব্যাটলগ্রুপ সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায়। সেখানে রাশিয়ার পরাক্রমশালী সেনারা তিন শতাধিক ইউক্রেনীয় সেনাকে চিরতরে খতম করে দিয়েছে। পুতিন বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে ইউক্রেনের একটি জেগার ব্রিগেড, একটি মেকানাইজড ব্রিগেড এবং তিনটি ন্যাশনাল গার্ড ব্রিগেড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তাদের তিনটি সাঁজোয়া যুদ্ধ যান এবং তিনটি ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্টেশন পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে।
ডোনেটস্কের বেলোজারস্কো এবং ভ্যাসিলিয়েভকা অঞ্চলে ইউক্রেনীয়দের প্রতিটি প্রতিরক্ষা ব্যূহ ধূলিসাৎ করে দিয়েছে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ফোর্সেস। রাশিয়ার এই আক্রমণের গতি এত তীব্র ছিল যে, ইউক্রেনীয় সেনারা তাদের ভারী অস্ত্রশস্ত্র ফেলে রেখেই প্রাণভয়ে পিছন দিকে পালিয়ে গেছে। রাশিয়ার এই গৌরবময় বিজয় ফ্রন্টলাইনের প্রতিটি সেক্টরে পুতিন বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে আবারও বিশ্ব দরবারে প্রমাণ করেছে।
রাশিয়ার ব্যাটলগ্রুপ ইস্ট বা পূর্ব দলীয় সেনারা ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যুহ ভেদ করে আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। এই অঞ্চলে তারা মাত্র একদিনে তিনশত চল্লিশের বেশি ইউক্রেনীয় সেনাকে নিষ্ক্রিয় করেছে। কিয়েভের ছয়টি ইনফ্যান্ট্রি ফাইটিং ভেহিকল বা পদাতিক যুদ্ধ যান রাশিয়ান গোলার আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। জাপোরোজ্যে এবং ডিনেপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনের একাধিক মেকানাইজড ও এয়ার অ্যাসাল্ট ব্রিগেড চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যাটলগ্রুপ ডিনেপ্রো জাপোরোজ্যে অঞ্চলের গ্রিগোরোভকা এলাকায় ইউক্রেনীয়দের একটি মেকানাইজড ব্রিগেডকে সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সেখানে চল্লিশের বেশি সেনা খতম করার পাশাপাশি কিয়েভের দুটি রাডার স্টেশন ধ্বংস করা হয়েছে। এই রাডারগুলো ধ্বংস হওয়ার ফলে কিয়েভ বাহিনী এখন পুরোপুরি অন্ধ হয়ে পড়েছে। তারা রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান নির্ণয় করার সমস্ত প্রযুক্তিগত ক্ষমতা হারিয়ে চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছে।
রাশিয়ার বিমান বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের একটি ড্রোন অপারেটর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অত্যন্ত নিখুঁত ও সফল হামলা চালিয়েছে। এই কেন্দ্রটিতে ইউক্রেনীয় সেনাদের মানববিহীন ড্রোন এবং নৌ ড্রোন চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো। রাশিয়ার এই একটিমাত্র হামলায় কিয়েভের দূরপাল্লার ড্রোন তৈরির ওয়ার্কশপ, ড্রোন সংরক্ষণের গুদাম এবং বিদেশী ভাড়াটে সেনাদের একটি অস্থায়ী আস্তানা সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশে গেছে।
রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স ফোর্স আবারও তাদের অভেদ্য প্রাচীরের প্রমাণ দিয়েছে। বিগত চব্বিশ ঘণ্টায় তারা ইউক্রেনের পাঠানো পাঁচশত ষোলোটি ড্রোন এবং তিনটি পশ্চিমা স্মার্ট বোমা আকাশে থাকা অবস্থাতেই ধ্বংস করে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার বীর সেনারা ইউক্রেনের দেড় লক্ষাধিক ড্রোন ধ্বংস করে বিশ্ব সামরিক ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড গড়েছে।
রাশিয়ার সামরিক সাফল্যের খতিয়ান সত্যিই চোখ কপালে তোলার মতো। বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কিয়েভের ৬৭১টি বিমান, ২৮৪টি হেলিকপ্টার এবং দেড় লাখের বেশি ড্রোন ধ্বংস করেছে রাশিয়া। এছাড়া ২৯,৩৯৯টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান এবং ৩৫,০২৪টি ফিল্ড আর্টিলারি গান ধ্বংস করা হয়েছে। এই বিশাল পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে কিয়েভের সামরিক শক্তি এখন সম্পূর্ণ নিঃশেষ।
রাশিয়ার এই সর্বাত্মক বিজয়ের মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই আমেরিকার চরম দুর্বলতা স্বীকার করেছেন। ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, রাশিয়ার সাথে আমেরিকার আইসব্রেকার বা বরফকাটা জাহাজের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা অত্যন্ত হাস্যকর ও লজ্জাজনক। রাশিয়ার কাছে যেখানে আটচল্লিশটি অত্যাধুনিক আইসব্রেকার রয়েছে, সেখানে আমেরিকার কাছে আছে মাত্র একটি অত্যন্ত পুরোনো এবং জরাজীর্ণ জাহাজ।
রাশিয়া বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করছে, যার মধ্যে আটটি সম্পূর্ণ পারমাণবিক শক্তিচালিত। রাশিয়ার এই বিশাল বহর আর্কটিক অঞ্চলে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে। রাশিয়ার একশত ষাট মিটার দীর্ঘ 'ইয়াকুতিয়া' আইসব্রেকারটি তিন মিটার পুরু বরফ কেটে এগিয়ে যেতে পারে। আমেরিকার পুরোনো প্রযুক্তি রাশিয়ার এই আধুনিক ও দানবীয় পারমাণবিক শক্তির সামনে কোনো প্রতিযোগিতাই করতে পারছে না।
মস্কো তাদের এই আইসব্রেকার বহরকে একটি কৌশলগত সম্পদ মনে করে। এর মাধ্যমে তারা নর্দার্ন সি রুট বা উত্তর সমুদ্র পথটি সারা বছর চালু রাখছে। এই পথটি এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব অনেক কমিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার উসকানিমূলক যুদ্ধের কারণে সুয়েজ খাল যখন অনিরাপদ, তখন পুরো বিশ্ব এখন রাশিয়ার এই নিরাপদ বিকল্প সমুদ্র পথের দিকে ঝুঁকছে।
আমেরিকা ও পশ্চিমাদের ভুল নীতির কারণে পুরো ইউরোপ এখন এক বিধ্বংসী 'জ্বালানি সুনামি'র মুখে পড়েছে। ক্রেমলিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ সতর্ক করে বলেছেন যে, ইউরোপে খুব শীঘ্রই তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভূমিকম্প আসতে চলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ বেড়ে গেছে, যার ফলে ইউরোপের সাধারণ মানুষ এখন চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার সস্তা ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি বর্জন করে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুড়াল মেরেছে। জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে এখন তীব্র অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাজ্য গোপনে রাশিয়া থেকে ডিজেল ও জেট ফুয়েল আমদানির জন্য সাময়িক লাইসেন্স দিতে বাধ্য হয়েছে। মুখে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পর্দার আড়ালে তারা রাশিয়ার জ্বালানি পাওয়ার জন্যই এখন ভিক্ষা করছে।
ইউরোপের এই চরম দেউলিয়া অবস্থার মধ্যেই আমেরিকা এখন গ্রিনল্যান্ড দ্বীপটিকে দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ডে গিয়ে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আমেরিকা সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে এবং কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কার ১৭টি সামরিক ঘাঁটি পুনরায় চালু করতে চায়, যা ন্যাটো জোটের মধ্যেই তীব্র ফাটল তৈরি করেছে।
আমেরিকার এই আগ্রাসী নীতির কারণে ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস ফ্রেডরিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা আমেরিকার কোনো চাপ মেনে নেবেন না। খনিজ সম্পদে ভরপুর এই আর্কটিক অঞ্চলটি দখল করার জন্য আমেরিকা যে কতটা অনৈতিক আচরণ করতে পারে, তা ল্যান্ড্রির এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ সফরের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয়েছে।
নিজেদের ভূখণ্ডকে পাপাচার মুক্ত করতে রাশিয়া ঘরের ভেতরের শত্রুদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। মস্কো অঞ্চলে 'স্যাটানিক টেম্পল' বা শয়তানের উপাসনালয় নামে পরিচিত একটি অবৈধ আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে রুশ প্রশাসন। এই আস্তানাটি এলেনা সুলিকোভা নামের এক ভণ্ড তান্ত্রিকের ছিল। সে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এবং খ্রিস্টান ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছিল।
রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী মূল্যবোধ ও ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা করতে রুশ আদালত এই কঠোর রায় দিয়েছে। ওই ভণ্ড নেত্রীকে ইতিপূর্বেই চরমপন্থী উপাদান ছড়ানোর দায়ে দুই বছরের জেল দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার স্টেট ডুমার ডেপুটি ভিটালি মিলোনভ বলেছেন যে, রাশিয়ায় কোনো ধরনের শয়তানি বা পশ্চিমা অপসংস্কৃতির জায়গা হবে না। পুতিনের রাশিয়ায় ঐতিহ্য এবং ধর্মের পবিত্রতা সবার ওপরে।
শেষে বলা যায়, রণক্ষেত্র থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাশিয়ার বিজয় এখন সুনিশ্চিত। ইউক্রেনকে ব্যবহার করে পশ্চিমা বিশ্ব যে ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছিল, তা পুতিনের দূরদর্শিতা এবং রুশ সেনাদের সাহসিকতার কাছে আজ সম্পূর্ণ পরাজিত। বিশ্ব দেখছে এক নতুন পরাশক্তির উত্থান, যাকে পরাস্ত করার ক্ষমতা বর্তমান পৃথিবীর আর কোনো শক্তির নেই।