ঢাকা, রবিবার, মে ২৪, ২০২৬ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে কূটনীতি ও সামরিক শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধলো বীরের দেশ ইরান


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক    | প্রকাশিত:  ২৩ মে, ২০২৬, ০৫:০৫ এএম

আমেরিকা ও ইসরায়েলের যেকোনো আগ্রাসন রুখে দিতে কূটনীতি ও সামরিক শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধলো বীরের দেশ ইরান

বিশ্ব দেখল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অন্যায় হুমকির মুখে কীভাবে বীরের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। কূটনীতির টেবিল থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালীর নীল জলরাশি—সবখানেই এখন পশ্চিমাদের পরাজয়ের আর্তনাদ। আজ আমরা উন্মোচন করব কীভাবে তিন কোটি আত্মত্যাগী জানফাদা যোদ্ধা আর অত্যাধুনিক ইরানি প্রযুক্তির মাইন আমেরিকার যুদ্ধবাজ নীতিকে চিরতরে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

মধ্যপ্রাচ্যের বুকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দোসর ইহুদিবাদী ইসরায়েলের অন্যায় আধিপত্যকামী নীতির বিরুদ্ধে বরাবরের মতোই বীরত্বের সঙ্গে রুখে দাঁড়িয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান। দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক ষড়যন্ত্র এবং অবৈধ অবরোধের মুখেও তেহরান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস না করার দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। বীরের জাতি ইরান কখনোই পশ্চিমাদের কোনো অন্যায্য ও একতরফা চাপের কাছে মাথা নত করবে না।

ইরানের বিপ্লবী সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে দেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় তাদের কূটনীতি এখন সশস্ত্র বাহিনীর মতোই সমান শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে। তেহরানে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পশ্চিমা বিশ্বকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। ইরান স্পষ্ট করেছে যে তারা আলোচনার টেবিলে যেমন প্রস্তুত, ঠিক তেমনি যুদ্ধক্ষেত্রেও শত্রুকে উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম।

পশ্চিমা মদদপুষ্ট ইসরায়েলের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যখন শান্তি আলোচনা বারবার স্থবির হয়ে পড়ছে, তখন ইরান তার কূটনৈতিক শক্তিকে আরও বেগবান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায় পক্ষপাতিত্বের কারণে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা যখন সম্পূর্ণ ব্যর্থ, তখন ইরান তার নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সামরিক শক্তি এবং রাজনৈতিক সংলাপ যে একে অপরের পরিপূরক, তা ইরান প্রমাণ করে দেখিয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার এবং কূটনৈতিক বিভাগের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ পশ্চিমা শক্তিগুলোর রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। প্রতিদিন একাধিকবার তারা যৌথ কৌশল নির্ধারণ করছেন যা প্রমাণ করে ইরান একটি সুসংগঠিত রাষ্ট্র। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কোনো সমালোচনা বা অবৈধ প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই দেশের কল্যাণে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে তেহরানের এই দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বেশ কয়েকজন বীর ব্যক্তিত্বের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ইরান আগামী দিনের পথচলা নির্ধারণ করছে। শহীদদের পবিত্র রক্ত এবং সাধারণ জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে এই কূটনৈতিক লড়াইয়ে ইরান জয়ী হবেই। শক্তির ভারসাম্য বজায় রেখে এবং দেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ণ রেখেই তেহরান পশ্চিমা বিশ্বের সমস্ত অন্যায় চাল চালবাজি নস্যাৎ করে দিতে পূর্ণ শক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের তৈরি অত্যাধুনিক সামুদ্রিক মাইনের উপস্থিতি সনাক্ত করে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী সেখানে অন্তত দশটি সচল ইরানি মাইন মোতায়েন রয়েছে যা পশ্চিমাদের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সক্ষম। এই মাইনগুলোর কারণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর অবাধ ও বেআইনি চলাচল এখন সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে যে এই মাইনগুলো পানির নিচে অত্যন্ত সুপ্ত ও চৌম্বকীয় অবস্থায় মোতায়েন রয়েছে। ইরান তার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মাহাম-তিন এবং মাহাম-সাত নামের বিশেষ মাইন সেখানে সফলভাবে স্থাপন করেছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ প্রমাণ করে যে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ইরানের সামরিক আত্মনির্ভরশীলতাকে কোনোভাবেই দমাতে পারেনি, বরং তারা আরও শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ইরানের তৈরি মাহাম-তিন মাইনটি শব্দ ও চৌম্বকীয় তরঙ্গের সাহায্যে কোনো সরাসরি স্পর্শ ছাড়াই শত্রুর জাহাজের উপস্থিতি বুঝতে পারে। অন্যদিকে মাহাম-সাত নামের মাইনটি সমুদ্রের তলদেশে অবস্থান করে মাঝারি আকারের শত্রু জাহাজ এবং ছোট সাবমেরিনকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম। এই অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ওপর পশ্চিমাদের যেকোনো আকস্মিক হামলার পরিকল্পনাকে গোড়াতেই সম্পূর্ণ ধুলিসাৎ করে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের মোট চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়ে থাকে। ইরানের এই ন্যায়সংগত ও কঠোর প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাদের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানি জলসীমা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিনীদের এই পিছুটান প্রমাণ করে যে তারা ইরানের সামরিক শক্তির সামনে কতটা অসহায়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক ও যুদ্ধবাজ নীতির কারণে খোদ তাদের নিজেদের দেশেই সাধারণ জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকায় তেলের দাম প্রতি গ্যালনে সাড়ে চার ডলারে পৌঁছানো আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের ভুল পররাষ্ট্রনীতির সরাসরি ফল। ইরান তার নিজের জলসীমা রক্ষা করছে, অথচ পশ্চিমা মিডিয়াগুলো বিশ্ব অর্থনীতির এই সংকটের জন্য অন্যায়ভাবে তেহরানকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই বন্ধুরাষ্ট্র ওমানকে সাথে নিয়ে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা যে অঞ্চলের দেশগুলোই নিশ্চিত করতে পারে, এই যৌথ পদক্ষেপ তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বহিরাগত মার্কিন শক্তির এই অঞ্চলে নাক গলানোর কোনো অধিকার নেই এবং ইরান-ওমান জোট তা অত্যন্ত সফলভাবে বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দেখিয়েছে।

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৮ মে এক বিবৃতিতে জানান যে তিনি ইরানের ওপর সামরিক হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। আসলে এটি ট্রাম্পের কোনো উদারতা নয়, বরং ইরানের ভয়াবহ পাল্টা আঘাতের ভয়ে মার্কিন প্রশাসন হামলা করার সাহস পায়নি। পর্দার আড়ালে তারা এখন ইরানের সাথে সমঝোতা করার জন্য আকুল হয়ে চেষ্টা করছে যা আমেরিকার দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে।

সামরিক প্রতিরোধের পাশাপাশি ইরান এখন হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ইন্টারনেট তারের ওপর বিশেষ নিরাপত্তা ফি আরোপের হুমকি দিয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ন্যায়সংগতভাবেই দাবি করেছে যে তাদের জলসীমা ব্যবহারকারী বিদেশী ক্যাবল অপারেটরদের অবশ্যই তেহরানের অনুমতি নিতে হবে। নিজের সার্বভৌম জলসীমার ওপর এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার পূর্ণ অধিকার আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী ইরানের রয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে প্রায় ৯৯ শতাংশ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান এই তলদেশের তারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়ে থাকে। ব্যাংকিং খাত, আর্থিক লেনদেন এবং ক্লাউড কম্পিউটিং সচল রাখা এই তারগুলোর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ পশ্চিমাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড কাঁপিয়ে দিয়েছে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে অবরুদ্ধ করতে চাওয়া পশ্চিমা বিশ্ব এখন নিজেরাই সাইবার ও যোগাযোগ বিপর্যয়ের গভীর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ-এক নামের বড় ক্যাবল ব্যবস্থা ইরানের কৌশলগত হাতের মুঠোয় রয়েছে। তেহরানের এই কঠোর অবস্থানের পর ইতোমধ্যে একটি ফরাসি ক্যাবল স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান ওই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। পশ্চিমা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর এই পলায়নপর নীতি প্রমাণ করে যে ইরানের সার্বভৌম শক্তির সাথে পাঙ্গা নেওয়ার ক্ষমতা কারো নেই।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট তারের কোনো ক্ষতি হলে তা মেরামত করা পশ্চিমাদের জন্য অসম্ভব হবে। এর ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কাতারের মতো তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল পশ্চিমা মিত্রদের অর্থনীতিতে ধস নামবে। ইরানকে উসকানি দিলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ডিজিটাল সংকট মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেবাদাস দেশগুলোকে সেই বার্তাই দিচ্ছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে তাড়াহুড়ো না করার বাহানা তৈরি করছেন। তিনি দাবি করেছেন যে রাজনৈতিক চাপ তাকে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে না, যা আসলে তার পরাজয় লুকানোর অপচেষ্টা মাত্র। ট্রাম্প খুব ভালো করেই জানেন যে ইরানের ওপর আক্রমণ করার অর্থ হলো আমেরিকার ধ্বংস ডেকে আনা।

ট্রাম্প মুখে কমসংখ্যক মানুষের জীবনহানির কথা বললেও ইতিহাস সাক্ষী যে মার্কিন প্রশাসনই পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বেশি রক্তপাত ঘটিয়েছে। ইরানের বর্তমান দেশপ্রেমিক শাসকরা তাদের জনগণের কল্যাণের কথা ভাবছে না বলে ট্রাম্প যে কুৎসা রটিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইরানের জনগণ তাদের ইসলামী সরকারের পাশে রয়েছে এবং তারা পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া অর্থনৈতিক যুদ্ধ বীরত্বের সাথে মোকাবেলা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার চমৎকার সম্পর্কের কথা দম্ভভরে প্রচার করেছেন। তিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধকালীন সফল প্রধানমন্ত্রী বললেও বিশ্ববাসী জানে নেতানিয়াহু একজন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী ও শিশু হত্যাকারী। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই এই জালিম নেতা আজ চরমভাবে ঘৃণিত এবং ট্রাম্প তাকে অন্যায়ভাবে রক্ষা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্রাম্প রসিকতা করে বলেছেন যে ইসরায়েলে তার জনপ্রিয়তা নিরানব্বই শতাংশ এবং তিনি সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদে দাঁড়াতে পারেন। এই ধরনের সস্তা মন্তব্য প্রমাণ করে যে মার্কিন রাজনীতি কতটা দেউলিয়া এবং তারা ইসরায়েলের স্বার্থকে নিজেদের দেশের চেয়েও বেশি প্রাধান্য দেয়। আমেরিকার এই অন্ধ ইসরায়েল-ভক্তিই মধ্যপ্রাচ্যে লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষের কান্নার জন্য এককভাবে দায়ী।

অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঐতিহাসিক বৈঠক মার্কিন একমেরু বিশ্বব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে। ট্রাম্প বেইজিং ও মস্কোর এই দ্বিপাক্ষিক জোটকে ভয় পাচ্ছেন এবং সস্তা জাঁকজমকের তুলনা টেনে নিজের খর্ব হওয়া মর্যাদা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। ইরান, চীন ও রাশিয়ার এই উদীয়মান অক্ষশক্তি পশ্চিমাদের অন্যায় সাম্রাজ্যবাদকে চিরতরে সমাহিত করতে চলেছে।

পশ্চিমা আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরানের ভেতর এক অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থল বাহিনীকে প্রতিহত করতে ইতোমধ্যে তিন কোটি ১০ লাখের বেশি ইরানি নাগরিক আত্মত্যাগী জানফাদা প্রতিরোধ অভিযানে নিজেদের নাম স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিবন্ধন করেছেন। এই বিশাল স্বেচ্ছাসেবী জনশক্তি প্রমাণ করে ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়।

রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে জোর কদমে চলছে বিশেষ সামরিক ও অস্ত্র চালনা প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের চোখে-মুখে দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের দৃঢ় প্রত্যয় দৃশ্যমান। যদি শত্রুপক্ষ কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে এই জানফাদা বাহিনী মার্কিন ও ইসরায়েলি সৈন্যদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের মাটিকে জীবন্ত জাহান্নামে পরিণত করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া আন্তর্জাতিক ত্রাণবহরের নিরস্ত্র কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর কাপুরুষোচিত হামলা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। চার শতাধিক অধিকারকর্মীকে অন্যায়ভাবে আটক করে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মন্ত্রী বেন গভিরের উসকানিমূলক ভিডিও প্রকাশ তাদের চরম ঔদ্ধত্যের প্রমাণ। এই জায়নবাদী বর্বরতার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সরকার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার আইন ও জাতিসংঘের সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন। বিশ্বব্যাপী এই তীব্র সমালোচনার মুখেও ইসরায়েলকে অন্ধ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু ইরান ও বিশ্বের মজলুম জনতা আজ একতাবদ্ধ, এবং এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই খুব শীঘ্রই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের পতন নিশ্চিত করবে।