এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম
নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুত অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে ‘আদর্শগতভাবে’ সম্মত হয়েছে Iran। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Times।
গত শনিবার Donald Trump ঘোষণা করেছিলেন, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ Strait of Hormuz-এ জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, ইরান নীতিগতভাবে ইউরেনিয়ামের মজুত সরাতে রাজি হয়েছে। তবে কোথায় এবং কীভাবে এই মজুত স্থানান্তর করা হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরকারি প্রতিনিধিদের বৈঠকে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েকদিন আগেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Mojtaba Khamenei বলেছিলেন, দেশের ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হবে না। তার এমন বক্তব্যের অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরেনিয়াম স্থানান্তরে ইরানের এই নীতিগত সম্মতিকে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
মূলত ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বন্দ্বের অন্যতম প্রধান কারণ।
২০২৫ সালের ৬ জুন এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেয় International Atomic Energy Agency। সেখানে বলা হয়, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যার বিশুদ্ধতার মাত্রা ৬০ শতাংশ।
জাতিসংঘের এই পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থাটি আরও জানায়, যদি ইরান এই বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করতে পারে, তাহলে সেই ইউরেনিয়াম দিয়ে একের পর এক পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
আইএইএ’র ওই বিবৃতির পরের সপ্তাহেই ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প, সামরিক স্থাপনা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে Operation Roaring Lion শুরু করে Israel। পরে এতে যোগ দেয় মার্কিন সেনাবাহিনীও।
১২ দিন ধরে চলা সেই সংঘাতে ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং কয়েকজন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী। তবে ওই অভিযানে ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুতের নাগাল পায়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক প্রকল্পের আড়ালে পরমাণু বোমা তৈরির কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে দেশটির পারমাণবিক প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে।
এই দীর্ঘ বিরোধের জের ধরেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত।