ঢাকা, সোমবার, মে ২৫, ২০২৬ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

সঞ্চয়-চাকরি কেড়ে শূন্য হাতে দেশে ফেরাচ্ছে আমিরাত


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ২৫ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

সঞ্চয়-চাকরি কেড়ে শূন্য হাতে দেশে ফেরাচ্ছে আমিরাত

পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকা চাকওয়ালের একাধিক গ্রামে ফিরে এসেছেন ১০০ জনের বেশি শিয়া মুসলিম। তাদের কারও হাতে এখন চাকরি নেই, নেই সঞ্চয়, নেই কোনো মালামাল। বছরখানেক আগেও যারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা কাজ করছিলেন, তারা এখন প্রায় শূন্য হাতে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ইরান যুদ্ধ চলাকালে আমিরাত থেকে পাকিস্তানে বহিষ্কৃত হতে থাকা সম্ভাব্য হাজার হাজার শিয়াদের মধ্যে এই ১০০ জন রয়েছেন। ঘটনাটি এখন পাকিস্তানের শিয়া সম্প্রদায়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে তদন্তে উদ্বুদ্ধ করেছে।

রয়টার্স বলছে, তারা ১০৩ জন পাকিস্তানির অভিবাসন নথি, ভিসা ও ফ্লাইটের বিবরণ পর্যালোচনা করেছে। সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রত্যেকেই জানিয়েছেন, বহিষ্কারের সময় তাদের মালামাল বা সঞ্চয় ফেরত নিতে দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তানি শিয়া রাজনৈতিক সংগঠন মজলিস ওয়াহদাত-ই-মুসলেমিনের ডেটাবেস অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর থেকে আমিরাত থেকে বহিষ্কৃত পাকিস্তানি শিয়ার সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি সংগঠনটির।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আমিরাত কোনো সম্প্রদায়ভিত্তিক বহিষ্কার করেনি। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন পাকিস্তানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, বহিষ্কৃতদের অধিকাংশই শিয়া এবং ইসলামাবাদ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এবং জেনেভাভিত্তিক সংস্থা মেনার কর্মকর্তারা বলছেন, আমিরাতে শিয়াদের বিরুদ্ধে এই দমন-পীড়ন নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তা তীব্র হয়েছে।

আলি আহমেদ নকভি ও তার স্ত্রী কুরাতুল আইন—দুজনেই শিয়া। তারা ২০২৪ সালে দুবাইয়ে প্রযুক্তি খাতে চাকরি নিয়েছিলেন। স্ত্রীকে আটকের পর ১৮ এপ্রিল তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরে নকভিকেও আটক করে আরও ৯৩ জন শিয়াসহ একটি ফ্লাইটে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

পাঞ্জাবের চাকওয়ালের সাবেক এক দুবাই মেট্রো ম্যানেজার জানান, ১৬ বছর আমিরাতে চাকরি করার পর পুলিশ তার ফোন কেড়ে নেয়, ৯ দিন আটকে রাখে এবং অন্ধকার বাসে করে বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘চোখের পলকে আমি আবার শূন্যে নেমে এলাম।’

উল্লেখ্য, প্রায় ১৮ লাখ পাকিস্তানি আমিরাতে কাজ করেন, যারা বাৎসরিক ৬০ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। অন্যদিকে ইরানের পর পাকিস্তানেই বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিয়া জনসংখ্যা (প্রায় ৪ কোটি)।