ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৪ | ১ বৈশাখ ১৪৩১
Logo
logo

শিকড়ের টানে নদিয়ার গ্রামে নোবেল কমিটির খ্যাতনামা চিকিৎসা বিজ্ঞানী, স্কুলে স্কুলে ঘুরে সেমিনার করছেন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৬ অক্টোবর, ২০২২, ০৭:১০ পিএম

শিকড়ের টানে নদিয়ার গ্রামে নোবেল কমিটির খ্যাতনামা চিকিৎসা বিজ্ঞানী, স্কুলে স্কুলে ঘুরে সেমিনার করছেন

শিকড়ের টানে নদিয়ার গ্রামে নোবেল কমিটির খ্যাতনামা চিকিৎসা বিজ্ঞানী, স্কুলে স্কুলে ঘুরে সেমিনার করছেন

 শিকড়ের টান একেই বলে। 
নোবেল কমিটির অন্যতম সদস্য যিনি চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের মনোনয়ন করেন, তিনিই পৌঁছে গেছেন নদিয়ার গাংনাপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম গোপীনগরে। তিনি নিজে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসা বিজ্ঞানী (Asim Duttaroy)। তাঁর হাত ধরেই নোবেল কমিটিতে চিকিৎসা শাস্ত্রে সেরা অবদানের জন্য নোবেল প্রাপকদের বেছে নেওয়া হয়। তিনি এখন গোপীনগরের স্কুলে স্কুলে ঘুরে সেমিনার করছেন। বাচ্চাদের পড়াচ্ছেন। 

চিকিৎসা বিজ্ঞানী অসীম কান্তি দত্তরায়কে (Asim Duttaroy) অনেকেই চেনেন। নোবেল কমিটিতে তিনিই ভারতীয় বংশোদ্ভূত চিকিৎসা বিজ্ঞানী। এই গোপীনগর গ্রামেই তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। পড়েছেন গ্রামের স্কুলেই। তাই মাটির টান ভুলতে পারেননি বিজ্ঞানী। নরওয়ে থেকে সম্প্রতি দেশের মাটিতে পা রেখেছেন অসীমবাবু। দেশে ফিরেই তাঁকে ছুটতে হয়েছিল চেন্নাইয়ের একটি সেমিনারে যোগ দিতে। সেখান থেকে গাংনাপুরে গোপীনগরের বাড়িতে ফিরেছেন।  (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({}); 
জন্মভিটের টান উপেক্ষা করতে পারেননি কখনওই। যতই আন্তর্জাতিক খ্যাতির শীর্ষে থাকুন না কেন। এই গ্রামই যে তাঁকে জীবনের প্রথম পাঠ দিয়েছে। প্রায় বছর ৪০ আগে গ্রামের অশ্বত্থ গাছের নীচে শুরু হয়েছিল তাঁর শিক্ষা জীবন। সেই সময় স্কুলের পরিবেশ এত আধুনিক ছিল না। অসীমবাবু বলেছেন, মাঠে বস্তা পেতে পড়াশোনা করতে হতো। প্রথমে গোপীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর হাতেখড়ি শুরু হয়। তারপর গাংনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাশ করে বেরিয়ে রানাঘাট কলেজে পড়াশোনা। কলকাতার রাজাবাজার সায়েন্স কলেজের পাঠ শেষ করে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ পাড়ি দিতে হয়।

দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন তিনি নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব মেডিসিন বিভাগের গবেষক ও অধ্যাপক (Asim Duttaroy) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তাছাড়া গত ছয় বছর ধরে চিকিৎসা শাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার প্রাপকদের মনোনয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবেও গুরুদায়িত্ব পালন করে চলেছেন। গবেষণাও চলছে সমান তালেই। ৬৮ বছর বয়সেও তাঁর গবেষণার কাজ থেমে থাকেনি। ইতিমধ্যেই প্রায় সাড়ে তিনশো গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। 

খ্যাতি, পরিচিতি যতই থাক গ্রামে নিজের জন্মভিটেতে ফিরে তিনি সেই গ্রামেরই একজন হয়ে যান। তাঁর বাড়ি, স্কুল, স্কুলের ক্লাসঘর, পড়াশোনা সবই স্মৃতির পাতায় ভীষণ টাটকা রয়েছে। তাই গ্রামে ফিরেই স্কুলে স্কুলে ঘুরে সেমিনার করছেন অসীমবাবু (Asim Duttaroy)। বিজ্ঞানের গবেষণার খুঁটিনাটি বিষয়গুলি বর্তমান প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সামনে তুলে ধরছেন। গাংনাপুর থানা এলাকার হুমায়নিয়াপোতা আব্দুল আজিজ উচ্চ বিদ্যালয় ‘আলোর সন্ধানে’ নামে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবেও উপস্থিত ছিলেন অসীমবাবু। কুসংস্কারের অন্ধকার কাটিয়ে এ প্রজন্মের কাছে বিজ্ঞানের আলো পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য।


/খবর দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে