ঢাকা, সোমবার, জুন ১৭, ২০২৪ | ৩ আষাঢ় ১৪৩১
Logo
logo

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৫০০ প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম মাত্র ৮ জন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৬ নভেম্বর, ২০২২, ০৭:১১ পিএম

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৫০০ প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম মাত্র ৮ জন

গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৫০০ প্রার্থীর মধ্যে মুসলিম মাত্র ৮ জন

ভারতের গুজরাটে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও তাদের মধ্যে মাত্র ৮ জন মুসলিম প্রার্থীকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ ও ৫ ডিসেম্বর রাজ্যটিতে দুই পর্বে ভোটগ্রহণ করা হবে। ফল ঘোষণা হবে ৮ ডিসেম্বর।

১৮২ আসন সমন্বিত গুজরাটকে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পরীক্ষাগার বলা হয়।  কিন্তু এখানে মুসলিম ভোটারদের গুরুত্বও কম নয়। মুসলিম ভোটাররা রাজ্যের ১১৭টি আসনে ১০ শতাংশের বেশি হওয়ায়, তারা যে কোনও দলের ভাগ্য নির্ধারণে   গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এই কারণেই কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (আপ),  ‘মিম’ থেকে বিজেপি, সবাই সর্বোচ্চ মুসলিম ভোট চায়। কিন্তু মুসলিম প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় দলগুলোর অধিকাংশই দ্বিধাগ্রস্ত বলে মনে হচ্ছে।  

গুজরাটে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি, কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি (আপ) এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৫০০ প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বিজেপি প্রায় সমস্ত আসনে প্রার্থী নির্ধারণ করেছে এবং ২০১৭ সালের মতো গেরুয়া দলটি একটি আসনেও    সংখ্যালঘু মুসলিম প্রার্থী দেয়নি। রাজ্যটিতে কংগ্রেস দল এপর্যন্ত সর্বাধিক মুসলিম ভোট পেয়ে আসছে। তারা ১৪০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করলেও এ পর্যন্ত মাত্র ৬ টি আসনে মুসলিমদের টিকিট দিয়েছে। আম আদমি পার্টি (আপ) এই প্রথমবার গুজরাটের সবকটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দলটিকে এখানে হিন্দুত্ব ইস্যুতে ফোকাস করতে দেখা যাচ্ছে। টাকায় লক্ষ্মী গণেশের ছবি দেওয়ার দাবি থেকে ‘ইউনিফর্ম সিভিল কোড’ সমর্থন করা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল (আপ) এ পর্যন্ত ১৫৭ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দিল্লিতে মুসলিম ভোটারদের প্রিয় ‘আপ’  গুজরাটে মাত্র দুটি আসনে সংখ্যালঘু প্রার্থীদের সুযোগ দিয়েছে। অর্থাৎ, এই তিন দলের (বিজেপি-কংগ্রেস-আপ) মধ্যে তাদের প্রার্থী তালিকায় এ পর্যন্ত মাত্র ৮ জন মুসলিম প্রার্থী ঠাই পেয়েছে।

রাজ্যে মুসলমানদের জনসংখ্যার হার ৯ শতাংশ। গুজরাটে এই প্রথমবার মুসলিম প্রার্থীদের কম প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে তা নয়। প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসও গত কয়েকটি নির্বাচনে ১০ জনেরও কম মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। ২৭ বছর আগে ১৯৯৫ সালে কংগ্রেস ১০ জনের বেশি সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মাঠে নামিয়েছিল। দলটি ১৯৮০ সালে সর্বাধিক ১৭ জন মুসলিমকে টিকিট দিয়েছিল। দলটিও এতে লাভবান হয়েছিল এবং ১৭ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জন জয়ী হয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৫ সালে তারা মাত্র ১১  জন মুসলমানকে টিকিট দিয়েছিল, যার মধ্যে ৮ জন জয়ী হয়েছিলেন।      

১৯৯০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে  রাম জন্মভূমি আন্দোলন গুজরাটে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে ইন্ধন যোগায়। জনতা দল যখন একটিও মুসলিম প্রার্থী দেয়নি, কংগ্রেস তখন তাদের ১১টি আসনে সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ২টি আসনে তারা জয়ী হতে পেরেছে। ২০০২ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর, দলটি মাত্র ৫টি আসনে মুসলিম প্রার্থী দেয় এবং তারপর থেকে এ পর্যন্ত তারা কখনও ৬ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থীকে সুযোগ দেয়নি।       

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রদায়িকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল গুজরাটে মেরুকরণ এড়াতে কংগ্রেস দল গত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে বেশি মুসলিম প্রার্থী  দেওয়া এড়িয়ে গেছে। মনে করা হচ্ছে সেই আশঙ্কার মধ্যে আম আদমি পার্টিও (আপ) মাত্র দুটি আসনে মুসলিম প্রার্থী দিয়েছে। এবার মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) কমপক্ষে তিন ডজন মুসলিম অধ্যুষিত আসনে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

খবর পার্সটুডে/এনবিএস/২০২২/একে