ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৪ | ৬ বৈশাখ ১৪৩১
Logo
logo

পশ্চিমবঙ্গের ৮৬% পুরুষের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি আছে, কমছে স্পার্ম কাউন্ট, কেন?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৯ নভেম্বর, ২০২২, ০৯:১১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের ৮৬% পুরুষের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি আছে, কমছে স্পার্ম কাউন্ট, কেন?

পশ্চিমবঙ্গের ৮৬% পুরুষের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি আছে, কমছে স্পার্ম কাউন্ট, কেন?

স্পার্ম কাউন্ট (Sperm Count) কমছে। বন্ধ্যত্বের শিকার হচ্ছে পুরুষরা। সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে কমতে শুরু করেছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। সমীক্ষা বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল অবধি এ রাজ্যেরই অনেক দম্পতি বন্ধ্যত্বের সমস্যা নিয়ে ডাক্তার দেখিয়েছেন। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, যেভাবে জীবনযাপনে অসংযম, নেশার প্রকোপ ও নানাবিধ অসুখবিসুখ বাড়ছে তাতে এ রাজ্যেরই ৮৬ শতাংশ পুরুষের বন্ধ্যত্বের (Male Infertility) ঝুঁকি রয়েছে। 
৬৪ হাজারের বেশি দম্পতির ওপরে পরীক্ষা করা হয়েছে। দেখা গেছে, এদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি দম্পতি সন্তানের জন্য ইনভিট্রো-ফার্টিলাইজেশনের (আইভিএফ) সাহায্য নিয়েছেন। এই বছরই জানুয়ারি থেকে অক্টোবর অবধি বিভিন্ন ফার্টিলিটি ক্লিনিকের সমীক্ষায় ধরা পড়েছে, স্পার্ম কাউন্ট কমছে পুরুষদের। ইরেকটাইল ডিসফাংশনের সমস্যাতেও ভুগছেন অনেকে। 

ইন্দিরা আইভিএফ নামে একটি সংস্থা দেশজুড়ে এই সমীক্ষা চালিয়েছে। কলকাতাতেও সার্ভে হয়েছে। এই সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর নিতিজ মুর্দিয়া বলছেন, বন্ধ্যত্বের (Male Infertility) সমস্যা গত দু’বছরে মারাত্মকভাবে বেড়েছে। তার জন্য কিন্তু মেয়েরা একা দায়ী নয়। পুরুষ বন্ধ্যত্বও চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যাণ দেখলে বোঝা যাবে, ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ৭৯ শতাংশ, ২০২১ সালে তাই ৯৬ শতাংশে পৌঁছে গেছে। সাধারণত বন্ধ্যত্বের জন্য মহিলাদেরই বেশি দায়ী করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, ৫০ শতাংশ বন্ধ্যত্বের কারণ মেল-ইনফার্টিলিটি ফ্যাক্টর (Male Infertility)। সন্তানধারণের জন্য যেমন সুস্থ ও স্বাভাবিক ডিম্বাশয় ও উৎকৃষ্ট ডিম্বাণু প্রয়োজন, তেমনই সুস্থ-সচল শুক্রাণুও দরকার। আর শুক্রাণুর সংখ্যাই কমতে শুরু করেছে। 
কেন পুরুষ বন্ধ্যত্ব (Male Infertility) বাড়ছে? 
একজন পুরুষের স্পার্ম কাউন্ট হওয়া দরকার ১৫ মিলিয়ন/ মিলিলিটার। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ও অনিয়ন্ত্রিত লাইফস্টাইলের কারণে স্পার্ম কাউন্টে হেরফের হচ্ছে। বন্ধ্যত্বের কারণ যদি খতিয়ে দেখা হয়, তাহলে বোঝা যাবে বন্ধ্যত্বের সমস্যার জন্য এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে শুধু মহিলারা, এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে পুরুষরা ও এক তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে উভয়েই দায়ী। পুরুষদের ক্ষেত্রে নানারকম ফ্যাক্টর(Male Infertility)  বন্ধ্যত্বজনিত সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। যেমন– ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা ইজাকুলেশনে সমস্যা থাকলে, অতিরিক্ত ধূমপান ও অ্যালকোহলের নেশা, ছোটবেলায় কোনও রকম ভাইরাল ইনফেকশন হলে, টেস্টিস বা শুক্রাশয়ে কোনও রকম সার্জারি হয়ে থাকলে।
গবেষণা বলছে, রোজকার কাজের চাপ, স্ট্রেস, আর তার মোকাবিলায় ধূমপান শুক্রাণুর ক্ষতি করে পুরুষদের বন্ধ্যত্বের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। খুব বেশি জাঙ্ক ফুড খেলেও একই সমস্যা। পাশাপাশি পুরুষের শারীরিক সম্পর্কের অক্ষমতা (Male Infertility) বাড়ছে।
গবেষকরা বলছেন, অনেক কারণ থাকতে পারে–
একজন পুরুষের ওজন যত বেশি, প্রজননজনিত প্রতিবন্ধকতা তাঁর ক্ষেত্রে তত বেশি। গবেষণা বলছে, একজন পুরুষের বিএমআই ইনডেক্স ৩০ বা তারও বেশি হলে স্পার্ম কাউন্ট কমতে থাকে (Male Infertility)। বেশি ওজন যুক্ত পুরুষের ফার্টিলিটি কেন কমে এ বিষয়ে মতভেদ আছে। গবেষকদের একাংশের মত, বাড়তি ওজন ও মেদ জননাঙ্গের কাছে জমা হয়ে শারীরিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যাতে স্বাস্থ্যকর শুক্রাণুর সংখ্যা ও গতিশীলতা বা গতিবেগ কমে যায়। 
কারণ আরও আছে। মানসিক চাপ ও টেনশন অন্যতম কারণ। ইনফার্টিলিটি বা ইরেকটাইল ডিসফাংশনে যাঁরা ভোগেন তাঁদের বেশিরভাগকেই দেখা গেছে, লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট ঠিকমতো নেই। দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। বাড়ি ফিরেও ডেডলাইন নিয়ে কাজ করেন। সঠিক সময় খাওয়া নেই, পর্যাপ্ত ঘুম নেই, দিনভর শরীরে ক্লান্তি থাকে। ডেডলাইনের চক্করে তাঁদের মাথায় কাজ ছাড়া আর কিছুই থাকে না। মানসিক চাপ ডেকে আনতে পারে অনিদ্রা ও হরমোনের ভারসাম্যের সমস্যা। ফলে সমস্যা দেখা দিতে পারে যৌনজীবনেও।

নিয়মিত ধূমপানের (Smoking) প্রভাব পড়ে শুক্রাশয়ে। শুক্রাণু দুর্বল হয়। ধূমপানের ফলে শরীরে ক্যাডমিয়াম ও জিঙ্কের মতো ক্ষতিকর ধাতু ঢোকে, এই ধাতুগুলো শুক্রাশয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। ধূমপান করলে স্পার্ম কাউন্ট (Sperm Count) কমে যেতে পারে। চেন স্মোকারদের পরবর্তী সময়ে ইরেকটাইল ডিসফাংশন, সহবাসে অক্ষমতা আসতে পারে।
মদ্যপান ও অস্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। 

ছোটবেলায় যৌনাঙ্গে আঘাত লাগলে তার থেকে পরবর্তী সময়ে সমস্যা আসতে পারে। বেশ কিছু ওষুধ স্পার্ম কাউন্ট কমায়। তাই ডাক্তারকে না জানিয়ে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। 
বহুগামিতা ও অসংযমী জীবনযাপনও বড় কারণ। এখনকার সময় জীবনযাপনে অসংযমই বেশি। তাই স্পার্ম কাউন্টও কমে যাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে।

খবর  দ্য ওয়ালের /এনবিএস/২০২২/একে