দেশের বাম গণতান্ত্রিক জোট ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা গতকাল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। বৈঠকে তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেন, "মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ভিত্তি। একাত্তরকে বাদ দিলে দেশের অস্তিত্বই থাকবে না।" তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় সব দলকে এক হয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুপুরে এই বৈঠকগুলো হয়। বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা প্রথমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন, এরপর তারেক রহমানের সাথে কথা বলেন। বিএনপির পক্ষে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
বাম জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, জাসদের নাজমুল হক প্রধান, ডা. মুশতাক হোসেন, আবদুল আলী, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু, ইকবাল কবির জাহিদ ও অধ্যাপক আবদুস সাত্তারসহ নেতারা।
"সবাইকে নিয়ে উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই"
তারেক রহমান বৈঠকে আরও বলেন, "একাত্তরের চেতনা, নব্বইয়ের গণ অভ্যুত্থান এবং চব্বিশের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের সমাজে আস্তিক-নাস্তিক, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সবাই থাকবে। সবাইকে নিয়ে আমরা একটি উদার গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই।"
বৈঠক শেষে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ সাংবাদিকদের বলেন, তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানাতে এসেছিলেন এবং পরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তারেক রহমান বিরোধী দলের ভূমিকা ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দেশের প্রশ্নে ঐক্যের কথা বলেছেন। বজলুর রশীদ জামায়াতের জাতীয় সরকারে থাকার দাবির প্রসঙ্গ তোলায় তারেক রহমান জানান, তাদের সাথে এই বিষয়ে আলোচনা হয়নি, শুধু দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ঐক্যের কথা বলা হয়েছে।
গণসংহতি আন্দোলন ও নাগরিক ঐক্যের সাথেও বৈঠক
একইদিনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও তারেক রহমানের সাথে দেখা করেন। তারা খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সমবেদনা জানান এবং আসন্ন নির্বাচনসহ জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
বিকেলে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করে শোক প্রকাশ ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
এভাবেই একদিনে বিরোধী শিবিরের বিভিন্ন দল ও জোটের সাথে আলোচনায় ব্যস্ত সময় কাটান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
