বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের চোখে, দলের সেরা উদাহরণ এখন মুস্তাফিজুর রহমান। আইপিএল থেকে নাম কাটা এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার মতো বড় ধাক্কাগুলোও যে কিভাবে সামলে নিয়েছেন এই পেসার, তা দেশের অন্য ক্রিকেটারদের জন্য অনুকরণীয় বলে মনে করেন এই কোচ।

অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপে ধূমকেতু দলের কোচ সালাহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, "আইপিএল থেকে বাদ পড়া বা বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া—এগুলো যে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য প্রচণ্ড আঘাত। কিন্তু মুস্তাফিজ সেটা নিয়ে নিজেকে ডুবিয়ে দেননি।"

সালাহউদ্দিন মুস্তাফিজের মানসিকতার প্রশংসা করে জানান, "মুস্তাফিজ আমাকে খুব সাধারণভাবেই বলেছে, 'যা গেছে, গেছে।' আইপিএল হলো না হলো, সেটা নিয়ে সে আটকে থাকেনি। এই মানসিকতাই একজন পেশাদার ক্রিকেটারের প্রয়োজন।"

মুস্তাফিজ গত আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছিলেন, তাই শুধু ক্রিকেট নয়, আর্থিকভাবেও এটি একটা বড় ক্ষতি। কিন্তু সালাহউদ্দিন বলেন, মুস্তাফিজ এই ক্ষতি নিয়েও একদমই দুশ্চিন্তা করেননি।

"মুস্তাফিজের কাছ থেকে এটা আমাদের সবার শেখার আছে," বলেন সালাহউদ্দিন। "এত বড় অঙ্কের টাকা, কেউই সহজে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারতেন। কিন্তু সে জানে যে এটা তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। মুস্তাফিজের কাছ থেকে আমি এটা শিখেছি এবং আমাদের অন্যান্য খেলোয়াড়রাও এখান থেকে শিক্ষা নেবে।"

তিনি স্বীকার করেন যে বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা এখনও অনেক ক্রিকেটারের মনেই রয়ে গেছে। "সবাই যে মানসিকভাবে একই রকম শক্ত, তা নয়। কিন্তু মুস্তাফিজ দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে হতাশাকে পাশ কাটিয়ে সামনের দিকে তাকাতে হয়," যোগ করেন তিনি।

বর্তমানে চলমান নতুন ফরম্যাটের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন বলেন, দেশের সেরা খেলোয়াড়রা এখানে খেলছেন, যা তাদের মনোযোগ নতুন লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। "আমরা বিশ্বকাপে নেই, এটা সত্যি। কিন্তু যা নিয়ন্ত্রণে নেই, তা নিয়ে মরে যাওয়ার কোনো মানে হয় না," বলেন তিনি।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে তিনি জানান, বাংলাদেশের এখনকার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। সালাহউদ্দিনের ভাষায়, "টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ। এখন আমাদের চোখ থাকবে সামনের ওয়ানডে বিশ্বকাপের দিকে।"

 

news