দেশের ক্রিকেটে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে Shakib Al Hasan। আর এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক ব্যাটার Khaled Mashud, যিনি ক্রিকেটপাড়ায় ‘পাইলট’ নামেই বেশি পরিচিত। খোলামেলা ভাষায় নিজের মত তুলে ধরেছেন তিনি— কথায় ছিল আবেগ, আবার ছিল বাস্তবতার ছোঁয়াও।
পাইলট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি সাকিবের বড় ভক্ত। তার ইচ্ছা, দেশের মাটিতেই যেন সাকিব সম্মানের সঙ্গে ক্যারিয়ার শেষ করেন।
মামলার প্রসঙ্গে সন্দেহ
সাকিবের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার বিষয়েও কথা বলেছেন পাইলট। তিনি এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন,
‘আমার কাছে মনে হয় মানুষ মাত্রই ভুল করে। অনেক কম বয়স। আর মামলার ব্যাপারে আমি যতদূর জানি, একটা মার্ডার মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। আমাদের দেশে প্রচুর ভুয়া মামলা হয়। কিন্তু আমি বলব, একজন রিকশাওয়ালা ভদ্রলোক মানুষকে সাকিবের মতো খেলোয়াড় বিদেশ থেকে মারবে— তা সন্দিহান।’
তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
‘আমি সাকিবের বড় ভক্ত’
আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাইলট আরও বলেন,
‘খালেদ মাসুদ পাইলট হিসেবে বলতে পারি, আমি সাকিবের বড় ভক্ত। আমি সবসময় মনে করি মানুষ মাত্রই ভুল করে। সে হয়তো খেলা অবস্থায় কোনো একটা (রাজনৈতিক) দলের সাথে জড়িত হয়েছিল, হয়তো সে ছয় মাসের জন্য একটা ভুল করেছিল। কিন্তু আমি মনে করি, কোনো খেলোয়াড়েরই যখন সে জাতীয় দলে খেলবে, তার কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা উচিত না।’
জাতীয় দল ও রাজনীতি— স্পষ্ট অবস্থান
এই বক্তব্যে মূলত একটি নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন পাইলট। তার মতে, জাতীয় দলের ক্রিকেটার মানেই পুরো দেশের আবেগের প্রতীক। সেখানে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকলে বিভাজন তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন,
‘আমার ব্যক্তিগত মতামত, খেলোয়াড়রা জাতীয় দলের সাথে যখন জড়িত থাকে, তখন সমস্ত মানুষের আবেগ থাকে ঐ খেলোয়াড়ের প্রতি। যখনই আপনি কোনো একটা দলের সাথে জড়াবেন, তখন কিন্তু এটা ভাগাভাগি হয়ে যায়। তো জাতীয় দলে যখন খেলবেন, তখন আমার মনে হয় দলের সাথে না থাকাই ভালো।’
সম্মানের সঙ্গে অবসর দেখার আশা
সবশেষে পাইলট বলেন,
‘মানুষ পৃথিবীতে অনেক ভুল করে। কিন্তু তাকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে দেখা ভালো। আমি সবসময় দোয়া করি যেন আল্লাহ তায়ালা তাকে সসম্মানে বাংলাদেশের জার্সি পরে বাংলাদেশ থেকে অবসর নেওয়ার সুযোগ দেন। আমরা যেন সবাই তাকে সম্মানিত করতে পারি, কেননা সে বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান প্লেয়ার।’
ক্রিকেটের মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্ক এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে। তবে পাইলটের বার্তাটা পরিষ্কার— সমালোচনা থাকলেও, দেশের সেরা ক্রিকেটারকে যেন শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড় হিসেবেই মূল্যায়ন করা হয়।
