টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৭ রানে জয়ী হয় ভারত। তাদের দেওয়া ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংলিশরা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই উপহার দিলেও ম্যাচের পার্থক্য গড়েছেন জাসপ্রিত বুমরাহ। দুই দল মিলিয়ে ৪০ ওভারে ৪৯৯ রান উঠলেও, বুমরাহ ৪ ওভারে ৩১ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন।
তবে ফাইনালের আগে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বুমরাহর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জানুয়ারিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারত ও নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল। ভারত ৪-১ ব্যবধানে জিতেছে, কিন্তু বুমরাহ সেই সিরিজে ৪ ম্যাচে ৪ উইকেট নিলেও ইকোনমি ৯.৪৬—যা তার জন্য ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচিত।
নিউজিল্যান্ডের বিপরীতে সব ফরম্যাটেই বুমরাহর পরিসংখ্যান বিশেষভাবে ভালো নয়। ৩২ বছর বয়সী এই পেসার কিউইদের বিপক্ষে ১৪ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন, ওভারপ্রতি ৭.০৫ ইকোনমিতে ১৬ উইকেট নিয়েছেন। তুলনামূলকভাবে তার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৯৪ ম্যাচে ৬.৫৫ ইকোনমি, ১১৭ উইকেট সংখ্যার সঙ্গে মেলে না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ১৫ ম্যাচে ৪.৮৩ ইকোনমিতে ১৩ উইকেট, টেস্টে ৫ ম্যাচে ২.৯৩ ইকোনমিতে ৯ উইকেট নিয়েছেন।
যদিও কিউইদের বিপরীতে কিছুটা খারাপ ইকোনমি থাকলেও বুমরাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা পেসারদের তালিকায় আছেন। ৮৯ ওয়ানডেতে ৪.৫৯ ইকোনমিতে ১৪৯ উইকেট এবং ৫২ টেস্টে ২.৭৭ ইকোনমিতে ২৩৪ উইকেট রয়েছে তার।
আগামীকাল (রোববার) আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত তৃতীয়বার এবং প্রথম শিরোপার আশায় নামবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দুই দল মুখোমুখি হওয়ার আগে স্বাগতিকদের সেমিফাইনাল জয়ের নায়ক বুমরাহ আলোচনায়। সঞ্জু স্যামসন দুর্দান্ত ব্যাটিং করলেও অনেকের মতে ম্যান অব দ্য ম্যাচ পুরস্কারটি বুমরাহরই প্রাপ্য।
ফাইনালের আগে নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার গ্লেন ফিলিপস বলেন, “বুমরাহও মানুষ। তারও খারাপ দিন যেতে পারে, যেমন আমাদেরও হয়। আশা করি তার বিপক্ষে ভালো দিন কাটাব। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তার বিপক্ষে আমাদের সফর ভালো ছিল, তবে সে বিশ্বমানের বোলার। ডেথ ওভারে সে বড় ধরনের আঘাত করতে পারে। বোলারদের খারাপ দিন যেতে পারে, আমাদের সেই সুযোগ নিতে হবে। আর সে যদি ভালো বল করে, আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।”
