আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ববিতা। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয়ের পর বিশ্বের নানা প্রান্তে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। নিজ দেশেও পেয়েছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের মেয়রের কাছ থেকেও পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

এবার সেই সম্মানের তালিকায় যুক্ত হলো একুশে পদক। জীবনের এই বিশেষ প্রাপ্তির অনুভূতি তিনি ভাগ করে নিয়েছেন দ্য ডেইলি স্টার-এর সঙ্গে।

একুশে পদক পেতে যাচ্ছেন—কেমন লাগছে?
এই প্রশ্নের উত্তরে ববিতা বলেন,
“আমি অনেক খুশি, অনেক বেশি আনন্দিত। কারণ, ভাষার মাসে একুশে পদক পাচ্ছি। ভাষার মাসে একুশে পদক প্রাপ্তি আমার জীবনের বড় অর্জন। ভেতরে ভেতরে অনেক সুখের অনুভূতি কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন,
“সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমার অভিনয় জীবনের সব সহশিল্পী এবং চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাংবাদিকদের ভূমিকা কম নয়—তাদের প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। আমার মা-বাবা, ভাই-বোনদের প্রতিও ভালোবাসা। আর আমার সব পরিচালকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।”

এই সুখবর শোনার পর প্রথম কার কথা মনে পড়েছে?
ববিতা বলেন,
“সত্যি বলতে, একুশে পদকের খবরটা জানার পর সবার আগে আমার একমাত্র ছেলে অনীকের কথা মনে পড়েছে। আমি দীর্ঘদিন কানাডায় ছিলাম, এখন দেশে আছি। ছেলেকে সবসময় খুব মিস করি। এত বড় সম্মানের কথা শোনার পর ওর কথাই আগে মনে এসেছে।”

তিনি জানান,
“ছেলেকে ফোন করেছিলাম, পাইনি। সম্ভবত ঘুমাচ্ছিল। তাই এসএমএস দিয়ে রেখেছি। ঘুম থেকে উঠেই নিশ্চয়ই ফোন করবে। আমি জানি, অনীক খুব খুশি হবে।”

বোন চম্পা ও সুচন্দার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ববিতা বলেন,
“ওরা দুজনই ভীষণ খুশি। দেশ-বিদেশ থেকে সবাই ফোন করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দেশের বাইরে থাকা আমার ভাই ও তার পরিবারের সদস্যরাও ফোন করেছেন। চম্পা আর সুচন্দা আপা খুব আনন্দিত। সবাই বলছে, মিষ্টি খাওয়াতে হবে। সবার আনন্দ দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে।”

কথার ফাঁকে এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী আরও বলেন,
“জীবনে অনেক পুরস্কার পেয়েছি। বাংলাদেশে বহুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি। একবার জাতীয় চলচ্চিত্রে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছি। কলকাতা ও অন্যান্য দেশ থেকেও সম্মাননা এসেছে। ডালাসের মেয়র আমাকে আজীবন সম্মাননা দিয়েছেন, এমনকি একটি দিনকে ‘ববিতা দিবস’ ঘোষণা করেছেন। কিন্তু আমার সব পুরস্কারের ঊর্ধ্বে একুশে পদক।”

শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন,
“একটা জীবন অভিনয় করে গেছি। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখন একুশে পদক পেতে যাচ্ছি—আমি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। দেশের সব মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা। তাদের ভালোবাসার কারণেই আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি।”

 

news