ঢাকা: 'আমার ছেলেরা জোরে জাপটে ধরে আদর করে। দিনে শতবার আদর আর আবদার পাশাপাশি চলে। ইদানীং আমার খুব মনে হয়, আমি/আমরা কোনোদিন আব্বা-মাকে জড়িয়ে ধরিনি।'

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাহনাজ খুশির লেখা এই কয়টা লাইন যেন হাজারো মানুষের মনে সৃষ্টি করেছে শৈশবের বেদনার ঢেউ। সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করা এই অভিনেত্রী মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হারিয়ে যান শৈশব আর স্মৃতির অতলে। সম্প্রতি নিজের প্রয়াত বাবাকে নিয়ে লেখা এক আবেগঘন স্ট্যাটাস ভাইরাল হয়েছে মুহূর্তেই।

"আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি"

শাহনাজ খুশি জানান, তারা বাবাকে 'আব্বা' বলে ডাকতেন। বাবার প্রতি না-বলা ভালোবাসার কথা জানাতে গিয়ে আক্ষেপের সুরে লেখেন, 'চোখ সমান ভালোবাসার পাহাড় থাকার পরও ঈদের দিন আর প্রতি বছর ফাইনাল পরীক্ষার দিন পা ছুঁয়ে সালাম করা ছাড়া, আব্বাকে আর ছোঁয়া হয়নি!'

নিজেকে সাধারণ মানসিকতার বা 'গ্রাম্য' দাবি করে এই অভিনেত্রী লেখেন, আজকাল মানুষ যখন দামি সুগন্ধির ব্র্যান্ড খোঁজে, তখন তিনি এখনও খুঁজে বেড়ান প্রিয় মানুষের গন্ধ। বাবার গন্ধ বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি লেখেন, 'আব্বার তেল মেখে গোসল করা, ব্যাক ব্রাশ করা চুলের ভাঁজ, ইট চাপা দেওয়া ঘাসের মতো সোনালি হলুদ ফর্সা গায়ের রং, কোনো পারফিউম ছাড়াই আব্বা আব্বা একটা গন্ধ বুকের ভেতর কেমন যে উথাল-পাতাল করত।'

অভিমানের কেটলি আর না-বলা কথা

তিনি জানান, তাদের পরিবারে বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে ভালোবাসা প্রকাশের কোনো রেওয়াজ ছিল না। এই অলিখিত নিয়মই এখন বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জীবনে। নিজের জমে থাকা অনুভূতিগুলোকে তিনি বলেছেন 'অভিমানের কেটলি'।

আবেগঘন সেই পোস্টে আরও লেখেন, 'আব্বার কবরটা আমার বুকের জায়গার চেয়ে বড় না। প্রায় জায়গাটার প্রচণ্ড তাপে, হাঁসফাঁস করে মরি, তবু কবরটা ছুঁয়ে নিয়ম ভেঙে বলা হয় না, আব্বা আমার কোনো কথাই বলা হয়নি।'

সামাজিক মাধ্যমে ঝড়

শাহনাজ খুশির এই পোস্ট মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। হাজার হাজার মানুষ মন্তব্য করে জানিয়েছেন, তার লেখা পড়ে নিজেদের বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ে গেছে। অনেকেই লিখেছেন, এই লেখা যেন তাদেরই মনের কথা, যা তারা কখনও বলতে পারেননি।

শেষ দীর্ঘশ্বাস নিয়ে অভিনেত্রী লেখেন, 'কারণ মানুষকে ছোট করে দেখতে শিখে বড় হইনি আমি! আমার আর কিছুই বলা হবে না কোনো দিন! চেয়ে চেয়ে দেখার কারাদণ্ড আমার আজন্মের...।'

 

news