দীর্ঘ অভিনয় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ গ্রহণ করলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী Bobita (ফরিদা আক্তার ববিতা)।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর Osmani Memorial Auditorium-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman তাঁর হাতে এই পদক তুলে দেন।
“গভীর আনন্দ আর কৃতজ্ঞতা নিয়ে গ্রহণ করেছি”
পর্দায় কয়েক দশক ধরে দর্শক মাতানো এই অভিনেত্রী সম্মাননা গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমকে নিজের অনুভূতির কথা জানান। আবেগঘন কণ্ঠে ববিতা বলেন,
“অবশেষে একুশে পদকপ্রাপ্ত হলাম। আজ এই সম্মাননা গ্রহণ করেছি গভীর আনন্দ আর কৃতজ্ঞতা নিয়ে। আমাকে রাষ্ট্রের এই সর্বোচ্চ সম্মাননায় ভূষিত করায় রাষ্ট্রের প্রতি, এদেশের মানুষের প্রতি এবং আমার প্রিয় দর্শকদের প্রতি মন থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।”
তার এই বক্তব্যে ছিল বিনয়, ছিল শিল্পী জীবনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি।
আরও যারা পেলেন একুশে পদক
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী Nitai Roy Chowdhury-র সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এ বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য মোট ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি ব্যান্ড দলকে পদক প্রদান করা হয়।
ববিতা ছাড়াও সংগীতে মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন Ayub Bachchu।
এছাড়া সাংবাদিকতায় Shafik Rehman, স্থাপত্যে Marina Tabassum এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড Warfaze এবার রাষ্ট্রীয় এই অনন্য স্বীকৃতি লাভ করেছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলা সিনেমার মুখ
বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করতে ববিতার অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে Satyajit Ray-এর চলচ্চিত্র Ashani Sanket-এ অভিনয় তাকে এনে দেয় বিশ্বব্যাপী পরিচিতি।
এছাড়াও অসংখ্য কালজয়ী সিনেমায় তার অভিনয় আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে গেঁথে আছে। চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক তার দীর্ঘ শিল্পসাধনার যথার্থ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী Ali Newaz Mahmud Khayyam।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব Nasimul Ghani অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং পদকপ্রাপ্তদের অবদানের বিবরণ পাঠ করেন।
একুশে পদকের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ববিতার চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের এই স্বীকৃতি যেন শুধু একজন অভিনেত্রীর নয়, বরং বাংলা চলচ্চিত্রেরই এক গৌরবময় মুহূর্ত।
