আব্দুল্লাহ আল মাসুম: গাছে না উঠতেই এক্কেবারে মগডালে! নিজেকে কি দেশের ভাগ্যবিধাতা ভাবছেন আবু সাদিক কায়েম? ছাত্র সংসদের কয়েক হাজার ভোট আর ১২ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট কি এক হলো? আজ আমরা ফাঁস করবো ক্ষমতার মোহে অন্ধ এক ছাত্র নেতার হাস্যকর সব কর্মকাণ্ডের পেছনের গল্প। 

কথায় আছে, "অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী, আর বেশি বাড়লে ঝড়ে যায়।" এই প্রবাদটি এখন আমাদের দেশের আলোচিত ছাত্র নেতা আবু সাদিক কায়েমের ক্ষেত্রে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজেকে আর কত হাস্যকর অবস্থানে দাঁড় করাবেন আপনি? আপনার সাম্প্রতিক প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, আপনি বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আপনার কর্মকাণ্ড এখন বিনোদনের খোরাক ছাড়া আর কিছুই নয়।

আপনি কথায় কথায় "গণপ্রতিরোধ"-এর ডাক দেন, যা অত্যন্ত হাস্যকর। এই শব্দটির একটি গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, যা আপনি স্রেফ প্রহসনে রূপ দিয়েছেন। সামান্য ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় কোনো ইস্যুতে এমন শব্দ ব্যবহার করা রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের লক্ষণ। আপনার বোঝা উচিত যে, গণপ্রতিরোধ মানে গুটিকয়েক অনুসারী নিয়ে চিৎকার করা নয়। আপনি স্রেফ জনগণের সেন্টিমেন্ট নিয়ে খেলছেন।

আপনার চারপাশে যারা থাকেন, তাদের আচরণ লক্ষ্য করেছেন কখনো? একদল উগ্র, অশালীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন অনুসারী নিয়ে আপনি দিন-রাত চলছেন। যখনই তাদের কোনো উগ্র কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আপনি অম্লান বদনে দায় অস্বীকার করেন। আপনি বলেন যে তাদের ওপর আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই। একজন প্রকৃত নেতার কাজ হলো তার দলের দায় স্বীকার করা। দায় এড়িয়ে যাওয়া ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয়।

আপনার আত্মমুগ্ধ ভঙ্গি দেখে মনে হয়, আপনি ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জিতেই বোধহয় রাষ্ট্রক্ষমতার বৈধ ম্যান্ডেট পেয়ে গেছেন। একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় লক্ষ শিক্ষার্থীর ভোট আর একটি দেশের ১২ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট কি এক? এই সাধারণ রাজনৈতিক পরিপক্বতা আপনার কবে হবে? রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ছাত্র রাজনীতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি বিষয়। এই বিভ্রম থেকে বের হওয়া আপনার জন্য জরুরি।

জাতীয় নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই, এটাই গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য। কিন্তু আপনার এবং আপনার সমর্থিত দলের পরাজয় মানেই দেশের পরাজয়—এমন সংকীর্ণ ব্যাখ্যা কেন? এই ধরনের আত্মকেন্দ্রিক চিন্তা কেবল স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। গণতন্ত্র মানেই হলো অন্যের মতের শ্রদ্ধা করা। অথচ আপনি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের রায়কে অপমান করে যাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ এক ভয়াবহ অস্থিরতা ও সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে। সেই অস্থিরতা দেশের অর্থনীতির জন্য কতটা ব্যয়বহুল ছিল, তা কি আপনি জানেন? বর্তমানে দেশের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচিত সরকারের সাথে গঠনমূলক সহযোগিতা। কিন্তু আপনি সেই পথে না হেঁটে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত। আপনার এই অপরিণামদর্শী আচরণ দেশের জন্য চরম ক্ষতির কারণ।

সামান্য কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপনি ফ্যাসিজমের পুনরাবৃত্তি বা গণপ্রতিরোধের মতো উসকানিমূলক রেটরিক ছড়াচ্ছেন। পরিস্থিতি ঘোলাটে করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টাই কি আপনার মূল লক্ষ্য? আপনার আবেগতাড়িত স্লোগান দিয়ে দেশের মানুষের পেট ভরবে না। এই মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন পরিমিতি, প্রজ্ঞা এবং গভীর রাষ্ট্রবোধ। চিৎকার করে পরিস্থিতি অস্থির করা কোনো রাজনৈতিক বীরত্ব নয়।

মিস্টার আবু সাদিক কায়েম, এখনো সময় আছে বাস্তবতায় ফিরে আসুন। নিজেকে দেশের চেয়ে বড় ভাবা বন্ধ করুন। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেটাতে গিয়ে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবেন না। সাধারণ মানুষ এখন শান্তি চায়, উসকানিমূলক স্লোগান নয়। মনে রাখবেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনীতি বেশিদিন টেকে না। রাজনৈতিক পরিপক্বতা অর্জন করুন, নতুবা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে সময় লাগবে না।

news