চোরের সাক্ষী মাতাল—এই প্রবাদটি কি বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে মিলে যাচ্ছে? বিদেশে বসে পিনাকী ভট্টাচার্য যখন জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার স্বপ্ন দেখান, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, দেশটা কি আবার অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে? আজকের ভিডিওতে দেখুন পিনাকী সেই ভয়ংকর গোপন আঁতাতের নেপথ্য কাহিনী!

কথায় আছে, "ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ডরায়।" বাংলাদেশের মানুষ জামায়াত-শিবিরের সেই অগ্নিসন্ত্রাস আর বিভীষিকার দিনগুলো ভোলেনি। অথচ এখন সুদূর ফ্রান্স থেকে পিনাকী ভট্টাচার্য নামের এক ব্যক্তি জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানোর দিবা স্বপ্ন দেখছেন। সাধারণ মানুষের রক্ত নিয়ে ছিনিমিনি খেলার এক নতুন নীলকশা তৈরি করছেন এই স্বঘোষিত বিশ্লেষক, যার লক্ষ্যই হলো দেশকে অস্থিতিশীল করা।

পিনাকী ভট্টাচার্য তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে খুব দম্ভের সাথে বলেছেন যে, আগামীবার নাকি জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে। ভাবুন একবার, যে দলটির অতীত রক্তে ভেজা, তাদের নিয়ে পিনাকীর এই মাতামাতি কি শুধুই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো বড় ষড়যন্ত্র? বিদেশে বসে আরাম আয়েশ করে দেশের ভেতরে বিষ ছড়ানোর এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়ানক।

তার এই বক্তব্যের মধ্যে কোনো দেশপ্রেম নেই, বরং আছে ক্ষমতার লোভ। পিনাকী বলছেন জামায়াত এবং অন্যান্য ছোট ছোট উগ্রবাদী দলের ভোট নাকি ৩৮ শতাংশ। তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এই কাল্পনিক সংখ্যাগুলো ব্যবহার করছেন। একজন স্বঘোষিত বিশ্লেষক যখন জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই ক্ষমতায় যাওয়ার ঘোষণা দেন, তখন বুঝতে হবে তিনি আসলে পর্দার আড়ালে থেকে কোনো অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে কাজ করছেন।

তিনি বলছেন পাঁচ বছর দাঁতে দাঁত কামড়ে কাজ করতে। কিসের কাজ? দেশকে কি আবারও একাত্তরের সেই পরাজিত শক্তির হাতে তুলে দেওয়ার কাজ? পিনাকীর নির্দেশনায় জামায়াত যদি রাজনীতি করে, তবে সেই রাজনীতি সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে না। বরং তা আসবে দেশের উন্নয়নকে ধ্বংস করতে এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতে। জনগণের আবেগ নিয়ে খেলা করার এই চেষ্টা অত্যন্ত ধিক্কারজনক ও জনবিরোধী।

পিনাকী ভট্টাচার্য নিজে দেশ ছেড়ে পালিয়ে ফ্রান্সে বসে আছেন। সেখান থেকেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছেন। তার এই হিসাব নিকাশ কেবলই ডিজিটাল প্রচারণা মাত্র। বাস্তবে বাংলাদেশের মানুষ কখনওই উগ্রবাদ কিংবা রাজাকারের আদর্শকে গ্রহণ করবে না। জামায়াতকে ক্ষমতায় নেওয়ার স্বপ্ন আসলে গণতন্ত্রের ওপর এক বড় আঘাত এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে এক চরম বেইমানি।

পিনাকী প্রকাশ্যে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন। এর মানে কি এই যে তিনি এখন জামায়াতের অঘোষিত আমীর হয়ে উঠেছেন? জামায়াত এবং এর মিত্রদের নিয়ে তার এই নতুন জোট গঠনের পরিকল্পনা মূলত বাংলাদেশকে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার কৌশল। ধর্মের দোহাই দিয়ে সহজ সরল মানুষকে বোকা বানানোই তাদের পুরনো অভ্যাস, আর পিনাকী এখন সেই পুরনো নাটকের নতুন এক ভাড়াটে নির্দেশক।

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না জামায়াতের অতীত ইতিহাস। একাত্তর থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সবার জানা। পিনাকী এখন সেই শক্তিকে পুনর্বাসিত করতে চান। তিনি দাবি করছেন ভোটের পার্সেন্টেজ নাকি ৪৫ শতাংশে নিয়ে যাবেন। এই অবাস্তব অংকের আড়ালে আসলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ জনতা পিনাকীর এই মিথ্যা পরিসংখ্যানকে ঘৃণাভরে এখন প্রত্যাখ্যান করছে।

বিদেশে বসে পিনাকী যেভাবে দেশের বিচার ব্যবস্থা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালান, তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। জামায়াতের মতো একটি নিষিদ্ধ প্রায় শক্তিকে তিনি যেভাবে উসকে দিচ্ছেন, তাতে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আসলে চান বাংলাদেশে অশান্তি বজায় থাকুক, যাতে তার ব্যক্তিগত ফায়দা লুট করা যায়। দেশবাসীর উচিত এই সমস্ত ভণ্ড দেশপ্রেমিকের আসল রূপ চেনা।

পিনাকীর এই 'পিস অব কেক' বা সহজ বিষয় বলার অর্থ হলো তিনি জনগণের বিবেককে তাচ্ছিল্য করছেন। গণতন্ত্র মানেই হলো জনগণের ভোটাধিকার, কিন্তু পিনাকী চাচ্ছেন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার রদবদল। জামায়াতকে ক্ষমতায় আনার এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা কেবল রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ করে। বাংলাদেশের প্রগতিশীল সমাজ ও সচেতন মানুষ কখনওই এই উগ্রবাদী জোটকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দিবে না বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস।

শেষে বলতে চাই, পিনাকী ভট্টাচার্যের মতো সুবিধাবাদীরা নিজের স্বার্থের জন্য দেশের বারোটা বাজাতেও দ্বিধা করে না। জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে তিনি যে নতুন নীলকশা বুনছেন, তা রুখে দেওয়ার সময় এখনই। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ আমাদের খুলে দিতে হবে। মনে রাখবেন, বাংলার মাটিতে কোনো অপশক্তির স্থান হবে না। আমরা চাই শান্তি, উন্নয়ন এবং প্রগতিশীল এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, কোনো ষড়যন্ত্র নয়।

news