চীনে কমে যাওয়া জন্মহার সামাল দিতে এবার সন্তান জন্মদানে নগদ অর্থ সহায়তা দিতে চলেছে দেশটির সরকার। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর জন্য বাবা-মাকে দেওয়া হবে বার্ষিক ৩৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৪৫ হাজার টাকা)। শিশুটি তিন বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন অভিভাবকরা।

শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মূলত দেশব্যাপী কমে যাওয়া জন্মহার ঠেকাতে। জনসংখ্যা হ্রাসের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শ্রমশক্তি ও ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান হার অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে চীনের জনসংখ্যা কমে ১৩০ কোটিতে নেমে আসবে।

সম্প্রতি জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যানে ভারত চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংকট আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে চীনের নীতিনির্ধারকদের।

নতুন এই আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি শুধু বিবাহিত দম্পতিদের জন্য নয়। সিঙ্গেল প্যারেন্ট বা সঙ্গীহীন ব্যক্তিরাও সন্তান নিতে পারবেন বা দত্তক নিতে পারবেন সরকারের অনুমতিসাপেক্ষে। সরকারের ভাষ্য, শিশু জন্ম এবং লালন-পালনের খরচ কমাতে ও দম্পতিদের মানসিক এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ লাঘব করতেই এ পদক্ষেপ।

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—এ আর্থিক প্রণোদনা কি যথেষ্ট হবে দেশের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়? বিশ্লেষকদের মতে, শুধু অর্থ দিলেই জন্মহার বাড়বে না; এর পাশাপাশি প্রয়োজন শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গৃহস্থালী সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তবুও, চীন সরকারের এই পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে জন্মহার বৃদ্ধির পথে একটি বড়সড় নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

news