একদিকে গাজায় ক্ষুধা, মৃত্যু ও ধ্বংসে ফিলিস্তিনিরা হাহাকার করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাগত জানানো হচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে। এই বৈপরীত্য এখন বিশ্বজুড়ে সমালোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি আলজাজিরার একটি হৃদয়বিদারক ছবিতে দেখা গেছে—একজন ফিলিস্তিনি কিশোরী খাবারের আশায় একটি দাতব্য রান্নাঘরের সামনে কাঁদছে। এই ছবি বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছে।

ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে পাঠানোর বিতর্কিত প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করেন।

এই বৈঠক এমন সময় হলো, যখন ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় সোমবার দিনে-দুপুরে কমপক্ষে ৬০ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। আরেকদিকে কাতারে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

এদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা রকেটচালিত গ্রেনেড দিয়ে লোহিত সাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এটি এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয় হামলা।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান আগ্রাসনে ইসরায়েলের হাতে গাজায় এখন পর্যন্ত ৫৭,৫২৩ জন নিহত এবং ১,৩৬,৬১৭ জন আহত হয়েছেন। বিপরীতে, ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালের হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১,১৩৯ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি বন্দী করা হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন বৈপরীত্যমূলক পদক্ষেপ শুধু মানবিক বিপর্যয়কে আরও জটিল করে তুলছে, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথও আরও দুরূহ করে তুলছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের এখনই জোরালো ভূমিকা নেওয়ার সময়।

news