কয়েক বছর আগেও দক্ষিণ কোরিয়া ছিল অস্ত্র আমদানিনির্ভর। তবে ২০২৫ সালে এসে দেশটি পরিণত হয়েছে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অস্ত্র রপ্তানিকারক এক শক্তিতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত।
পোল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে K2 ট্যাংক, K9 হাউইটজার ও FA-50 যুদ্ধবিমান সরবরাহ করছে কোরিয়া। ফিলিপাইনে যাচ্ছে ১২টি FA-50 জেট (৭১২.৮ মিলিয়ন ডলারে), ভারত পাচ্ছে K9 হাউইটজার। সৌদি আরব কিনেছে ৩.২ বিলিয়ন ডলারের কেএম-স্যাম ব্লক II ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
২০২১ সালে যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার অস্ত্র রপ্তানি ছিল ৭.৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৫ সালের লক্ষ্যমাত্রা ২৩ বিলিয়ন। সরকারের সহায়তায় Hanwha Aerospace, KAI, LIG Nex1 ও Hyundai Rotem-এর মতো প্রতিষ্ঠান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ইউন সুক ইওল নেতৃত্বে ২ বিলিয়ন ডলারের কৌশলগত তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অ্যারোস্পেস প্রযুক্তি ও উন্নত উপকরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকেও দেওয়া হচ্ছে অনুদান ও সহজ ঋণ।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য কোরিয়ার দিকে ঝুঁকছে। কারণ, কোরিয়ার অস্ত্র দ্রুত, নির্ভরযোগ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী। একবার চুক্তি হলে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব তৈরি হয়—এটাই কোরিয়ার কৌশলগত জয়।
চুপিসারে এই দেশটি বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে হয়ে উঠছে এক ‘নীরব কিন্তু প্রভাবশালী’ শক্তি—যার দিকে এখন গোটা বিশ্বের নজর।
